
সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়ক প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত অনেক ইট নিম্নমানের। এছাড়া বালুর পরিমাণ কম দেওয়া, গাইডওয়াল নির্মাণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার না করা এবং নির্ধারিত মান অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেবে যাওয়া ও অন্যান্য ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামীণ মাটির রাস্তা টেকসই করার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চাকপালপাড়া সড়ক থেকে ইসলামপুর এলাকার আবুলের বাড়ি পর্যন্ত এক হাজার মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ লাখ ১ হাজার ৫৩ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজ। প্রায় এক মাস আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণকাজ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামল উদ্দিন বলেন, “সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত অনেক ইট নিম্নমানের। এছাড়া বালুর পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে এবং গাইডওয়াল নির্মাণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে না। নির্ধারিত মান অনুসরণ না করেই কাজ করা হচ্ছে। কাজ শুরুর পর থেকেই তদারকির অভাব রয়েছে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসিফ বলেন, “সরকারি অর্থে নির্মিত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পে ব্যবহৃত ইট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকল্পটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন, “কিছু দুই নম্বর ইট রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড মেনেই কাজ করা হচ্ছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজের মালিক বেপারী মো. কামাল বলেন, “ গাইডওয়ালের কাজ শেষ হওয়ার পর বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে বালু ধুয়ে যায়। ফলে কিছু জায়গায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কাজ এখনও চলমান রয়েছে। সামনে আরও ভালোভাবে কাজ সম্পন্ন করা হবে এবং কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।”
এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”