
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও। একসময় যাকে উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা জেলা বলে আক্ষেপ করতেন মানুষ, সেই ঠাকুরগাঁও এখন নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা আর পরিবর্তনের আলোচনায় মুখর। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, যোগাযোগ থেকে শিল্পায়ন, প্রশাসনিক সেবা থেকে নাগরিক উন্নয়ন একের পর এক বড় উদ্যোগে জেলায় তৈরি হয়েছে আশার নতুন দিগন্ত।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম। ফলে চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, গ্রাম থেকে শহর মানুষের মুখে এখন একটাই আলোচনা, একটাই বাক্য ‘প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাননি, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল।
গত ১৩ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে ঠাকুরগাঁও জেলায় ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করেন।
বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানচিত্র, শুধু মেডিকেল কলেজই নয়, ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলা হিসেবে গড়তে নানামুখী মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জেলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজ এখন সমাপ্তির পথে। দক্ষ জনবল তৈরিতে জেলায় একটি নার্সিং কলেজেরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
নাগরিক সেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে ভেঙে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভূল্লী’ নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এ ঘোষণায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে, হয়েছে আনন্দ মিছিল।
বিসিক শিল্প নগরী-২ এর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের নতুন আশা জাগছে।ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দরটি পুনরায় সচল করা। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব হওয়ার পথে। আগামী ২০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসছেন। মন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব। বিমানবন্দরটি চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরব রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী, তিনি ঠাকুরগাঁওকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকে একটি আধুনিক মডেল শহরে রূপান্তরের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। শহরের যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাটের আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে বিশেষ মেগা প্ল্যান।
ভূল্লী এলাকার শাহীন ইসলাম বলেন, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য এবং সময়মতো কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করা হলে ঠাকুরগাঁও কৃষিতে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গত বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সুফল তুলে ধরেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং খাসজমি বণ্টনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি ব্যাখ্যা করে বলেন, মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও জেলা এখন উন্নয়নের অভিযাত্রায় অগ্রণী।
সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। আজ তার প্রতিফলন ঘটছে, এটি আমাদের বড় বিজয়।ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন তাজু বলেন, উন্নয়নের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নের এ মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঠাকুরগাঁও হবে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষা হাব।