
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
ও নদীরে,
একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে।
বলো কোথায় তোমার দেশ
তোমার নেই কি চলার শেষ।।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গানের মতো যমুনা নদীর করাল গ্রাসে কবলিত আজ সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা। যমুনা নদীর করাল গ্রাসে নদীভাঙন এলাকার শত শত ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যমুনা নদী শুধু মাটি নয়, মানুষের স্বপ্ন,স্মৃতি আর অস্তিত্ব মুছে ফেলছে। নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসত বাড়ি,ফসলিজমি, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি পূর্বপুরুষের কবর ও। প্রতি নিয়ত ভেঙ্গে চলছে যমুনা নদী।নদীর তীব্র স্রোতের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছে কাজিপুরবাসির হাজার হাজার মানুষ।
জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে টানা নদী ভাঙনের শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা,স্কুল,দোকান পাট অসংখ্য গাছপালা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার ভাঙ্গনের ঝুঁকি বাড়ছে। নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে যমুনা নদী পাড়ের মানুষেরা।
কাজিপুরের যতগুলো পয়েন্ট আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে চর গিরিশ ইউনিয়নে। এক সময় চর গ্রিস ইউনিয়নে ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের কোলাহলে মুখর ছিল, আজ পুরো চর সেখানে এখন সর্বত্র ভাঙ্গনের ক্ষত চিহ্ন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাত্র দুই সপ্তাহের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে আরও শতাধিক পরিবার যে কোন সময় গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।
চর গিরিশ ইউনিয়নের লোকমান হোসেন বলেন, এক সময় এ চরে অনেক পরিবারের বসবাস ছিল। আগের ভাঙ্গনে প্রায় ১৫০ টি পরিবার এলাকা থেকে চলে গেছে। গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে অন্তত ৩০ টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে আরো শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হবে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি কারণে নদীর তীরবর্তী অনেক এলাকায় ভাঙ্গনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। নিচু এলাকায় কিছু জমি পানিতে ডুবে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় নৌকা ছাড়া চলাচলের অসম্ভব হয়ে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাষ্যমতে, কাজিপুরে পয়েন্ট ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোকলেছুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জ,কাজিপুর,শাহজাদপুর, চৌহালি কয়েকটি এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যেই জায়গায় ভাঙ্গছে সেই স্হানে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। একইসঙ্গে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাব ও উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
যমুনাপারের মানুষের একটাই দাবি, অস্থায়ী নয়, টেকসই,স্থায়ী সমাধান। আর যেন কোন পরিবারের চোখের সামনে নিজের ভিটেমাটি হারানো নির্মম দৃশ্য দেখতে না হয়।
Leave a Reply