
ফায়েজুল কবীর,মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুর সদরের আড়িয়ালখাঁ নদীর উপর নির্মিত দর্শনীয় ৭ম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু (আচমত আলী খান সেতু) এর পশ্চিম প্রান্তে সোমবার (২৯ জুন) রাত ৮:০০ টায় ২টি মটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জন মারাত্মক আহত হয়েছে। সদর থানা পুলিশ, হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত গতিতে চালক সহ বিপরীত দিক থেকে রাতের অন্ধকারে হেড লাইট জ্বালিয়ে ২টি মটর সাইকেলে ৩ জন করে আরোহী নিয়ে আচমত আলী খান সেতুর সন্নিকটে মেসার্স আড়িয়ালখাঁ ফিলিং ষ্টেশনের কাছে এলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বিকট শব্দ ও আর্ত চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। তারা দেখতে পান দু’টি মটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে সেখানে উভয় বাইকে থাকা আরোহীদের ৬ জন রক্তাক্তাবস্থায় আর্ত চিৎকার করছে। পরে তারা তাদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে মাদারীপুর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহতদের মধ্যে মাদারীপুর শহরের রকেটবিড়ি এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে সিয়াম (১৯), হাবিব হাওলাদারের ছেলে সাজ্জাদ হাওলাদার (১৮), দুলাল কাজীর ছেলে শুভ কাজী (১৮), মস্তফাপুর ইউনিয়নের তাতিবাড়ী এলকার নারজু মাতুব্বরে ছেলে রিফাত (১২), শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলার কবিরাজকান্দির জাকির হোসেনের ছেলে বশির আহম্মেদ (৩২) ছাড়াও ২৫ বছরের অজ্ঞাত আরও একজন রয়েছে। আহতদের মধ্যে সাজ্জাদ, শুভ ও বশির আহম্মেদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। দূর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আচমত আলী খান সেতুর উপর এবং এর পূর্ব-পাশ্চিম প্রান্তে কোনও স্পিড ব্রেকার না থাকা সহ ফাঁকা জায়গা থাকায় এখানে তরুণ-যুবকেরা প্রায়ই পাল্লাপাল্লি করে অত্যন্ত মাত্রাতিরিক্ত গতিতে মটরসাইকেল চালায়, যা’র ফলে এখানে মাঝে-মধ্যেই মটরসাইকেল ও অন্যান্য যানআাহনের দূর্ঘটনা ঘটে। তারা আরও বলেন, এই জায়গায় অনেকে নিহত ও অগণিত আহত হয়েছে। ব্রীজটির দুই পাশে কার্যকর স্পিড ব্রেকার বা গতিরোধক না থাকা এবং অতিরিক্ত গতিই দূর্ঘটনার প্রধান কারণ, ব্রীজটির মাঝখানেও সমান্তরাল জায়গায় স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হলে এমন ভয়াবহ এক্সিডেন্টের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। উল্লেখ্য যে উক্ত সেতুটি একটি পর্যটন এলাকাও বটে, সেখানে বন্ধের দিন সহ প্রতিদিনই শত-শত পর্যটকের আগমন ঘটে।
Leave a Reply