
ব্রক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশের পরিবেশ, নদী ও প্রকৃতি সংরক্ষণে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। এতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা, তিতাস নদীর সংকট, আন্তঃসীমান্ত ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গত ১ জুলাই স্থানীয়(বাংলাদেশ সময় ২ জুলাই সকাল ৮.৪০) সময় রাত ১০.৪০ ঘটিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোর বিচউড প্যালেসে পরিবেশ, নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর বাফেলো শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রবাসীদের ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অংশগ্রহনকারী বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদী শুধু দুই দেশেরই নয়, এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব নদীর ন্যায্য পানিবণ্টন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা । বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ তিস্তার প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী তিতাস নদীর নাব্যতা হ্রাস, দখল ও দূষণের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, একসময় জেলার অর্থনীতি ও জনজীবনের প্রাণ ছিল তিতাস নদী, টাউন খাল। কিন্তু অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা, নদী দখল ও দূষণের কারণে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে জনদুর্ভোগের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করতে পারলে শহরের পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক শামীম আহমেদ। তিনি পরিবেশ রক্ষাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
এদিকে পরিবেশ ও নদী রক্ষার এ উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাফেলোতে বসবাসরত প্রবাসীরা বাংলাদেশি সংগঠনটির নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খাইরুজ্জামান ইমরান। এছাড়াও আলোচনা সভায় অংশগ্রহন করেন, একেএম আবু হানিফ, সামসু উদ্দিন, শাহিনুর ইসলাম, রিপন হক, হাসান মোহাইমেন, ইব্রাহিম কামাল বুলবুল, আব্দুর রাজ্জাক মাসুদ এবং মোঃ শওকত আকবর কিশোর, মোঃ সোলেমান ইমাম প্রমুখ।
Leave a Reply