
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা শেষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নতুন বেতন কাঠামো খাতের জন্য বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ দূর করতে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সংগতি মেলাতেই সরকার এই বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
বিপুল অঙ্কের আর্থিক সংশ্লেষ বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। যদিও এটি বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কাঠামোর তুলনায় কিছুটা কম, তবুও বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে একে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বাকি বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যোগ করা হবে।
দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি আসন্ন বাজেটের আগেই ‘জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫’-এর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়। সরকারি এই অনড় অবস্থানের মুখে সরকার এখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছে।
নতুন এই বেতন কাঠামোর সুফল কেবল ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারীই পাবেন না, বরং এর আওতায় আসবেন ৯ লাখ পেনশনভোগীও। এ ছাড়া বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেত মিললে আগামী বাজেটেই আসতে পারে নতুন পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বিশাল এই জনবলকে সন্তুষ্ট রাখতে এটি হবে সরকারের অন্যতম বড় একটি চ্যালেঞ্জ ও বিনিয়োগ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকেই প্রথম ধাপের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে পূর্ণাঙ্গ নবম পে স্কেল ও সংশ্লিষ্ট সব ভাতা পুরোপুরি কার্যকর হতে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাজেট ঘাটতির ভারসাম্য রক্ষা করতেই সরকার এই ধীর অথচ নিশ্চিত পথ বেছে নিয়েছে। এতে সরকারের ওপর হুট করে বড় আর্থিক চাপ পড়বে না, আবার কর্মচারীরাও নিয়মিত বিরতিতে বেতন বৃদ্ধির সুফল পাবেন।