
শরীফ ফায়েজুল কবীর,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্য ধূলগ্রামের বাসিন্দা মৃত- সাহেব আলী মাতুব্বরের পুত্র আলমগীর মাতুব্বর (৬৫) অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ”ঘি কাঞ্চন” সবুজ শাক ও সবজি চাষ করে আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি হয়ে উঠেছেন একজন সফল কৃষক। তিনি মাত্র ১ একর ৬০ শতাংশ কৃষিজমিতে ‘ঘি কাঞ্চন’ শাক ও নানাবিধ সবজি চাষ করে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি কিছু জমিজমাও ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এক ছেলে ও দুই মেয়েদের লেখাপড়াও করিয়েছেন। তার উৎপাদিত বিষমুক্ত সবুজ শাক ও সবজি এখন রান্নাঘর ও খাবার টেবিলের পছন্দের তালিকায়। পুষ্টিকর এই সবুজ শাক ও সবজির উৎপাদনে তিনি এজন্য সকাল-সন্ধ্যা পরিশ্রম করে সন্ধ্যার পরে বের হন নিজস্ব রিকশাভ্যানে করে তার নিজ এলাকায় বিক্রি সহ মাদারীপুর শহরের অলিগলিতে বিক্রির জন্য। অনেকে এখন খুঁজে বেড়ান ষাটোর্ধ্ব কৃষক আলমগীর মাতুব্বরের বিষমুক্ত শাক-সব্জির ভ্যান মাদারীপুর শহরে এলো কি-না। শুধু ঘিকাঞ্চন শাক-ই নয়- পুই, কলমি, ডাটা, লাউ শাকের পসরা সাজিয়ে প্রায় প্রতিদিনই তাকে তা বাজার-হাটে-ঘাটে বিক্রি করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে তার কৃষিজমিতে গিয়ে তাকে উক্ত শাক-সবজি পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত দেখা যায়। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এসব শাক-সবজি উৎপাদনে তিনি সম্পূর্ণভাবে জৈব সার ব্যবহার করেন। তিনি আরও জানান, গত বছরে তিনি পাঁচ লক্ষ টাকার সবুজ শাক-সবজি বিক্রি করেছেন এবং তা থেকে খরচ বাদে তার আড়াই লক্ষ টাকার মতো আয় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ বছর তার উৎপাদন, বিক্রি ও আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ ব্যাপারে বালিগ্রাম ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত কালকিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা মোঃ সুজা কাজী ও মাদারীপুর মস্তফাপুর হটিকালচার সেন্টারের উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম হোসেন খান জানান, তাদের অফিস থেকে তারা কৃষক আলমগীর মাতুব্বরকে উন্নত মানের শাক-সবজি উৎপাদনে জৈব সার সহ অন্যান্য সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদি সরবরাহ করে থাকেন। উল্লখ্য যে, তার উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক ও বিষমুক্ত অত্যন্ত সুস্বাদু লাউ, বরবটি, ঢেড়শ,করল্লা, শশা, চিচিঙ্গা সহ অন্যান্য সবজি তরকারী- যা’ মাদারীপুরের সবজি ক্রেতাদের মধ্যে খুবই সমাদৃত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সবুজ শাকের অভাবে সব বয়সী মানুষ যেভাবে বিভিন্ন পুষ্টিহীণতা ও ক্যান্সারসহ যেসব মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে- তার থেকে পরিত্রাণের জন্য আলমগীর মাতুব্বরের উৎপাদিত “ঘি কাঞ্চন” সবুজ শাকটি হতে পারে একটি নিরাপদ প্রতিষেধক। এই সবুজ শাকটি দেশের সর্বত্র চাষ করে সেই সমস্যা থেকে অনেকটা পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে, সারা দেশে এই ‘ঘি কাঞ্চন’ শাকটি হতে পারে কৃষকদের জন্য একটি সহজলভ্য অর্থকরী ফসল।