
রাজশাহী ব্যুরো:
বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে স্কুলব্যাগে করে বুপ্রেনরফাইন ইঞ্জেকশনের বড় চালান পাচারের সময় এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া জেলা কার্যালয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইঞ্জেকশন ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তি দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার সাতখড়ি এলাকার মো: কিসমত আলীর ছেলে মো: সোহেল (৪৭)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে একটি বড় মাদকের চালান নওগাঁ থেকে বগুড়ার দিকে পাচার করা হচ্ছে। পরে উপপরিচালক জিললুর রহমানের দিকনির্দেশনায় ডিএনসির একটি চৌকস দল এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় নওগাঁ থেকে বগুড়াগামী সিয়াম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে বাসের জি-৪ নম্বর সিটে টিকিটবিহীন অবস্থায় বসে থাকা সন্দেহভাজন যাত্রী মো: সোহেলের দেহ ও তার সঙ্গে থাকা কালো রঙের ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। পরে ব্যাগের ভেতরে কাগজে মোড়ানো ও স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় বুপ্রেনরফাইনযুক্ত ‘কিউপিজেসিক’ (CUPIGESIC) লেবেলযুক্ত ৫০০ অ্যাম্পুল ইঞ্জেকশন উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি অ্যাম্পুলে ২ মিলিলিটার করে মোট ১ হাজার মিলিলিটার মাদকদ্রব্য ছিল। এছাড়াও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এও৩এস অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসি বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদক কারবারিরা নতুন নতুন কৌশলে মাদক পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের মাধ্যমে তাদের অপতৎপরতা প্রতিহত করা হচ্ছে। মাদকের এই চালানের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তরুণ সমাজকে রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বগুড়া সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।