
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬নং নিজপাড়া ইউনিয়নের সন্তগাঁও গ্রামের মো. আব্দুস সালামের মেয়ে মোছা. সাবিনুর খাতুনের সঙ্গে একই উপজেলার সম্বুগাঁও গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের পারিবারিকভাবে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামায় ৫ লাখ ১ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সাদ্দাম হোসেন, শাশুড়ি মোছা. সামসুননাহার এবং দেবর সাদেকুল ইসলাম অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সাবিনুর খাতুনকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ভুক্তভোগী ওই টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে স্বামীসহ তিনজন মিলে নাইলনের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাবিনুর খাতুনকে মৃত ভেবে অভিযুক্তরা বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং দ্রুত বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের প্রথম স্ত্রীও দীর্ঘদিন পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (অটোমোবাইল অ্যান্ড অটো ইলেকট্রিক্যাল বেসিকস) পদে কর্মরত বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন।
বীরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply