
রাজশাহী ব্যুরো:
পাথরবোঝাই ট্রাকের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে বিপুল পরিমাণ বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন পাচারের সময় বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এসময় তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ১২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইনযুক্ত ইনজেকশন, একটি পাথরবোঝাই ট্রাক, তিনটি মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৩ মে) রাত ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ভরিয়া পাকুরতলা এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ভেরাকোলা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল শেখের ছেলে শরিফ ইসলাম (২৪), একই উপজেলার টারুটিয়া গ্রামের মৃত আমজাদ মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৫) এবং দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের মৃত অফুর উদ্দিনের ছেলে মন্টু মিয়া (৪৮)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে একটি বড় মাদকের চালান উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় পাচার করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভরিয়া পাকুরতলা এলাকায় অবস্থান নিয়ে লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী একটি পাথরবোঝাই ট্রাকে তল্লাশি চালানো হয়। এসময় একটি প্লাস্টিকের বাজার ব্যাগের ভেতরে থাকা তিনটি পৃথক প্যাকেট থেকে বুপ্রেনরফাইনযুক্ত “CUPIGESIC” লেবেলকৃত মোট ১ হাজার ১২২ অ্যাম্পুল ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৫৭১৭ নম্বরের একটি কার্গো ট্রাক, ৪৩০ সিএফটি কালো পাথর, তিনটি মোবাইল ফোন ও পাথরের চালান কপি জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদক কারবারিরা এখন বৈধ পণ্য পরিবহনের আড়ালে অভিনব কৌশলে মাদক পাচারের চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বড় এই চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সরকার ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে ডিএনসির অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শিবগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।