
বদলগাছী(নওগাঁ)প্রতিনিধি:
গত২০(অক্টবর)মঙ্গলবার নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৭নং আধায়পুর ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গ উৎসবে আশরাফুল ইসলাম নয়ন নামে এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মন্দির ঘুরে ঘুরে এতিম শিশুদের খুঁজে তাদের হাতে নতুন টাকার নোট তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আশরাফুল ইসলাম নয়ন বদলগাছী উপজেলার ৭ নং আধাইপুর ইউনিয়ন থেকে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
জানা যায়, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আশরাফুল ইসলাম নয়ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আধাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে প্রতিটি মন্দিরে যাওয়ার পরই তিনি কোনো কারণ না জানিয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মা অথবা বাবা হারা এতিম শিশুদের খোঁজ করতে থাকেন। আর কোনো এতিম শিশু সামনে এলেই বয়স অনুপাতে কারও হাতে একশত টাকা অথবা কারও হাতে দুইশত টাকার নতুন চকচকে নোট তুলে দেন। নতুন নোট পেয়ে এতিম শিশুরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। একদম চকচকে নতুন টাকার নোট পেয়ে এতিম শিশুদের বাঁধভাঙা আনন্দ আর তাদের মুখের হাসি ছুঁয়ে গেছে উপস্থিত সবাইকে। এ সময় সমস্ত মন্দির প্রাঙ্গণও খুশিতে ভরে ওঠে। এদিন ইউনিয়নের ১৬টি দুর্গা মন্দির ঘুরে শতাধিক এতিম শিশুর হাতে এই নতুন টাকার নোট তুলে দেন তিনি।
আর এমন মহতী উদ্যোগের জন্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম নয়নকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলেন, এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ দেখে আমরা মুগ্ধ। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এতিম ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতায় একজন খাঁটি মানবিক নেতার পরিচয় মেলে। আমাদের ইউনিয়নে এমন একজন মানবিক চেয়ারম্যানই প্রয়োজন, যিনি গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের মনের কষ্ট বুঝবেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম নয়ন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “যার বাবা-মা নেই, এই পৃথিবীতে তার আগলে রাখার মানুষ খুবই কম। এতিম শিশুদের হাতে যখন নতুন কড়কড়ে নোট তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের মুখে যে নিষ্পাপ আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে, সেটিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একজন শিশু যখন নতুন নোটের স্পর্শ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়, তখন সেই আনন্দ আমার হৃদয়ে গভীরভাবে অনুভূত হয়। আর এই কাজ শুধু আমি আজকে করছি না, দীর্ঘদিন যাবৎ আমি প্রতিটি পূজা ও ঈদে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী করে আসছি।
আমার নিজের অর্থায়নে ২০১০ সালে নিজ উদ্যোগে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ ফাউন্ডেশন গঠন করি। এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক কাজগুলো করার চেষ্টা করি। এতে আমার আত্মতৃপ্তি হয়, আমার ভালো লাগে। আমি আগামীতে চেয়ারম্যান হলেও এ কাজ অব্যাহত থাকবে, না হলেও অব্যাহত থাকবে। এটি আমার মনের তৃষ্ণা মেটায়।