
বাদল মিয়া,সরাইল প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইলে ভাড়া বাসা থেকে সাদ্দাম হোসেন (৪২) নামের এক মাইক্রোবাসচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার স্ত্রী দাবি করেছেন, সাদ্দাম গলায় ফাঁস দিয়েছিলেন। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তার স্বজনেরা। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে অরুয়াইলের একটি ভাড়া বাসা থেকে সাদ্দামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের তেলিয়াকান্দি গ্রামের ওসমান মিয়ার ছেলে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম পেশায় মাইক্রোবাসচালক ছিলেন। তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে নরসিংদীতে থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বুশরাকে নিয়ে তিনি অরুয়াইলে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। এই সংসারেও তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
সাদ্দামের দ্বিতীয় স্ত্রী বুশরা জানান, শনিবার রাত নয়টার দিকে সাদ্দাম বাসায় ফেরেন। খাবার দিতে চাইলে তিনি বাইরে খেয়ে এসেছেন বলে জানান। তাদের দুই সন্তান অসুস্থ থাকায় রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি।
বুশরা বলেন, ভোরের দিকে সাদ্দামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল আসতে থাকে। পরে পাশের কক্ষে গিয়ে জানালার পাশে তাকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে কাছে গিয়ে তিনি গলায় দড়ি দেখতে পান। কক্ষে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার ছিল। পরে ছুরি দিয়ে দড়ি কেটে আশপাশের লোকজনের সহায়তা চান। সাদ্দামকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানান তিনি।
বুশরা আরও বলেন, সাদ্দাম মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের গেম খেলতেন। এসব গেমে কখনো টাকা পাওয়া যেত, আবার কখনো টাকা হারাতে হতো বলে তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে সাদ্দাম মানসিক চাপে থাকতেন বলে তার ধারণা। সংসারের খরচের টাকা দেওয়ার পরও অনেক সময় তার অজান্তে সেই টাকা নিয়ে গেম খেলতেন সাদ্দাম। তাকে একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি বলে দাবি করেন বুশরা। তবে এসব বিষয়ের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাদ্দামের ভাই রুমান বলেন, তার ভাই মাইক্রোবাস চালিয়ে সংসার চালাতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। জানালার গ্রিলে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।