
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রূপকল্প বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে কলমাকান্দায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির ২য় পর্যায়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দাসহ সারা দেশে একযোগে এ কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচীর আওয়তায় কলমাকান্দা লেংগুরা ইউনিয়নে ৭৯৪ জন উপকারভোগী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রাপ্ত হন। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড বা সরকারের যেকোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেনই দুর্নীতি নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবীদের তথ্য সংগ্রহ না করে অবহেলা করাও এক বড় ধরণের দুর্নীতি।”
তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা বেশিরভাগ (ম্যাক্সিমাম) সেই বাড়িতেই গেছেন যে বাড়িতে চেয়ার পেয়েছেন, চা দিয়ে আপ্যায়িত হয়েছেন। যে ঘরটায় উঁকি দিয়ে ঢোকার মতো অবস্থা নেই, হয়তো সেখানে যাননি। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের শ্রেণীভেদ বা হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, গারো, হাজং- এই ভেদাভেদ করা যাবে না। মানুষ হিসেবে সবার মূল্যায়ন করতে হবে। পরবর্তী কার্যক্রমে যেন সবার আগে ঝুঁপড়ি ঘর, ছনের ছাউনি দেওয়া ঘর এবং যাদের বসার একটা চেয়ার পর্যন্ত নেই- তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।” ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ফ্যামিলি কার্ডকে প্রধানমন্ত্রীর ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ বা স্বপ্নদ্রষ্টা প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছল ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, যদি ভুলবশত কোনো সচ্ছল ব্যক্তি আড়াই বা তিন হাজার টাকার কার্ড পেয়ে থাকেন, তবে তা যেন পাশের বাড়ির প্রকৃত দরিদ্র ও অভাবী মানুষটির মাঝে বণ্টন বা সহায়তা হিসেবে দিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের উপকারভোগী লাভলী রংদী। তিনি বলেন, “আজকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে আমি আসলে আবেগে আপ্লুত। জীবনে কোনোদিন সরকারি কোনো অনুদান পাইনি। লেংগুরা ইউনিয়নের উপকারভোগী হিসেবে আজকে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছি। আমার স্বামী এবং বয়োবৃদ্ধ মা-বাবা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) কেটে কোনো রকমে আমাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। ভালো খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের থাকে না।”
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লাভলী রংদী আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ডের টাকার মাধ্যমে আমাদের অভাব দূর হবে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারব এবং পরিবারে কিছুটা ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারব।” তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা করেন। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এবং ‘এক আইডি এক পরিবার’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. নুরুজ্জামান নূরু, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম, কলমাকান্দার ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভুঁইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply