
মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
গল্প নয় বাস্তবে চোখের জল ঝরিয়ে এসিল্যান্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন উপজেলার হাসিয়া মৌজার (৮৫) বছরের বৃদ্ধ ছোলেমান হোসেন। তিনি গত ২১-০৭-২৬ ইং তারিখে রেকর্ড সংশোধনের মিস কেস নং ০৫/২৬-২৭ এর একটি চূড়ান্ত রায় পেয়েছেন, মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের দপ্তর থেকে। কোনো রকম হয়রানী আর টাকা পয়সা খরচ ছাড়াই এই শেষ বয়সে এসে নিজের শেষ সম্বল একখণ্ড জমির মালিকানা যে তিনি বিবাদীদের নিকট থেকে ফিরে পাবেন, এমনটি কখনোই মনে করেননি। রায়ের কাগজ হাতে পাওয়ার পর তার দু’চোখ থেকে আনন্দের অশ্রুুজল গড়িয়ে পড়েছিলো। উপজেলার বান্দের পাড়া মৌজার গৃহিণী আরজু আক্তার জানান, আমরা উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হয়রানী ছাড়াই একই দিনে ২টি মিস কেসের রায় পেয়েছি। বিবাদীদের প্রতি লড়াই করে একসাথে দুটি মিস কেসের রায় পাওয়া এখানে বিরল ঘটনা। আমাদের ২ টি মিস কেসেরই চূড়ান্ত অনলাইন অনুলিপি প্রদাণের জন্য উপজেলা এসিল্যান্ড মহোদয় গত ৩০-০৬-২৬ ইং তারিখে নিজ দ্বায়িত্বে সমস্ত কাগজ পত্র রংপুর জেলা প্রশাসক মহোদয় এর রেকর্ড রুমে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে আরও বলেন, শুধু এসিল্যান্ড মহোদয়ই নন,তার দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরাই জনবান্ধব। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওই ভূমি অফিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো তারা সকলেই আমাদের যে উপকার করেছেন তা কোনদিনও ভোলার মতো নয়। এছাড়াও উপজেলার বিনোদপুর মৌজার মিজানুর রহমান, হামিদপুর মৌজার সবুজ মিয়া, শেকুরপাড়া মৌজার আশিকুর রহমান রতন ছাড়াও মহানগর সদর সার্কেলের বড় বাড়ী মৌজার শাহজালাল মিয়া ও সুলতান আহমেদ সহ একাধিক জন আলোকিত নিউজ কে বলেন, এসিল্যান্ড মহোদয় অনেক সুন্দর মনের মানুষ। আমাদের নামজারী খারিজ সহ একাধিক সমস্যা নিয়ে আমরা ওনার দপ্তরে চলাচল করেছি। আমাদের কথা শুনে কাগজপত্র দেখে অতি অল্প সময়েই উনি আমাদের সব কাজ গুলো হয়রানী ছাড়াই পার করে দিয়েছেন। রংপুর মহানগর সদর সার্কেল (ভূমি), ও মিঠাপুকুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ দুই অফিসের দ্বায়িত্ব পালন করে স্মরণকালের একজন ভালো, দক্ষতাসম্পন্ন ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন আশিক জামান। তাঁর দুরদর্শী ও বলিষ্ঠ পরিচালনায় যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক ভালো সেবা মিলছে দুটি ভূমি অফিস থেকে। একটি সমর্থিত সূত্র জানায়,রংপুর মহানগর সদর সার্কেল ও মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রতি মাসে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজারের মতো নামজারী খারিজ আবেদন জমা পড়ে সেগুলোর সম্পূর্ণ শুনানী গ্রহণ করে ২৮ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হয় এসিল্যান্ড আশিক জামান কে, এছাড়াও শত শত মিস কেসের শুনানি গ্রহণ শেষে প্রতিটি মামলার সঠিক রায় প্রকাশ সহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা,প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদারদের প্রতিটি কাজের অগ্রতির তদন্ত করা সহ বিভিন্ন দাপ্তরিক মিটিং আলোচনার মধ্যে তাকে রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। এতো কিছুর পরও একটি কুচক্রী মহল এসিল্যান্ড মহোদয় এর নিকট অবৈধ সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করতে না পেরে তাঁকে বিতর্কিত করতে নানাভাবে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে। ভূমি সেবার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে এসেছে এবং সেবাগ্রহীতারা আগের তুলনায় দ্রুত সেবা পাচ্ছেন। সীমিত সময় নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও জনবান্ধব মনোভাবের কারণে ভূমি অফিসের সার্বিক সেবার মান পূর্বের তুলনার অনেকটা উন্নত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলে উক্ত এলাকার সৃজনশীল মানুষেরা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply