
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, কোনো ধরনের চাপের কারণে নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই বোয়িং কেনার চুক্তি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে রোববার সকালে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ড. মাহদী আমিন বলেন, এটি কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমান কেনার সিদ্ধান্ত বেশ আগেই নেওয়া হয়েছিল। এ সংক্রান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই পক্ষ ও দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে এবং চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কোঅপারেশন নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এ সফর শুধু যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জাতিসংঘকেন্দ্রিক ছিল না। প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এসব আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের বিষয়েও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন, তাদের সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে কার্যকরভাবে একসঙ্গে কাজ করে এসব সমস্যার সমাধান করা যায় কীভাবে, তা নিয়েও কথা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ ও সংগঠন মানবাধিকার এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিয়ে কাজ করে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, খুব স্বল্পকালীন এ সফরে বহু বছর পর বাংলাদেশ থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সফরে প্রধানমন্ত্রী যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় বাস্তবায়ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সফরে শুধু বাংলাদেশের কথাই বলেননি, বিশ্ব শান্তির কথাও বলেছেন। ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। এটি শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার সময় বাংলাদেশ সেখান থেকে ওয়াকআউট করেছে।
এদিকে, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। জবাবে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।