
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচিও ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। ওইদিন সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেবেন তিনি। পরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে বৈশ্বিক বৈষম্য, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
এ ছাড়া যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের এটিই প্রথম ভাষণ। ফলে এবারের অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।