1. : lf_qJ9tbNbwyV2F :
  2. live@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  3. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ব্যবসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করলে কাউকে ছাড় নয়-মাদারীপুরে এমপি জাহান্দার আলী নিয়ন্ত্রণহীন এলপিজি বাজার,বাড়ছে দাম মিলছে না সিলিন্ডার রবীন্দ্রনাথের ছবি পায়ের নিচে রেখে পোস্ট,ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার টুঙ্গিপাড়া কোটালীপাড়া দুর্গা পূজা সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি আহ্বান এমপি এস এম জিলানী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ প্রতিরক্ষায় হাজার কোটি ডলার ব্যয়, তবু কেন হুথিদের কাছে অসহায় সৌদি? আজারবাইজান ও ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী বীরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ মুকসুদপুর ফারুক খান উচ্চবিদ্যালয়ে এডহক কমিটির আহ্বায়ক তারেকুল ইসলাম কে ফুলেল শুভেচ্ছা মাদারীপুরে পৌরসভার রাস্তা আটকে ঘর নির্মাণের অভিযোগ, ঝুঁকিতে বিদ্যুতের খুঁটি দুই বছর ধরে অকেজো সড়কবাতি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আর্থিক শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জরুরি ১৮ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য ভুয়া ফটোকার্ডে বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ,প্রতিবাদ এমপি পাপনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ামুখী ট্রাম্প দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে ১৬ নির্দেশনা কাশিয়ানীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু,ডিসেম্বরের মধ্যে ৪ কোটি ৮৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আন্দোলনকে‘দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র’বললেন কঙ্গনা হাসানের হ্যাটট্রিকে আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস,পাঁচ উইকেট শিকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে দিল্লিতে আটক-৭০০

প্রতিরক্ষায় হাজার কোটি ডলার ব্যয়, তবু কেন হুথিদের কাছে অসহায় সৌদি?

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বছরে প্রতিরক্ষা খাতে হাজার হাজার কোটি ডলার ব্যয়, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—কোনো কিছু দিয়েই ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। দেশটির বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এখনো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। ফলে নিজেদের বিশাল ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রিয়াদ।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি আরবের ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে কেনা বিভিন্ন অস্ত্র দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে। এরপরও সাম্প্রতিক হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যাচ্ছে না।

সৌদি আরবের জন্য বড় সমস্যা দেশটির বিস্তৃত ভূখণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংখ্যা। রাজধানী রিয়াদ থেকে তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, বিমানবন্দর, পানি শোধনাগার ও ডেটা সেন্টার—সবকিছুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একসঙ্গে এতগুলো স্থাপনা রক্ষা করা এবং কোন হামলা আগে প্রতিহত করতে হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব দিক থেকে ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, উত্তর দিক থেকে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হুমকি এবং দক্ষিণে ইয়েমেন থেকে হুথিদের আক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। ফলে একাধিক দিক থেকে আসা হুমকি মোকাবিলায় সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।

 হুথিদের বদলে যাওয়া যুদ্ধকৌশল

সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিক্ষেপের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে সব লক্ষ্য শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তুলনামূলক নিচু দিয়ে উড়ে আসায় রাডারে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, হুথিরা দাবি করেছে, তাদের ব্যবহৃত কিছু নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই সব ধরনের হামলা শতভাগ ঠেকানোর নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে ইরানের সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা অতীতে ইয়েমেনে উদ্ধার করা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সঙ্গে ইরানি অস্ত্রের মিল পেয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হুথিদের ব্যবহৃত ‘হাতেম-২’ ও ‘প্যালেস্টাইন-২’ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানি অস্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

গত বছর হুথিদের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হেনেছিল। ঘটনাটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করে।

ইরানের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে হুথিদের

ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে হুথিরা এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি ধরে রেখেছে। তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও নিজস্ব রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে গোষ্ঠীটির।

২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতে ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়। ওই সংঘাতের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় হুথিরা। পরে সৌদির তেল শোধনাগার ও বিমানঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগে ইরান মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তেহরান প্রস্তুত। তবে হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, সৌদি আরব তাদের প্রস্তাবিত দুই সপ্তাহ বা এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়নি।

নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের টানাপোড়েন

হুথিদের সঙ্গে সংঘাত বাড়লেও সৌদি আরবের সামনে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় হিসাব রয়েছে। একদিকে হামলার জবাব না দিলে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে, অন্যদিকে বিমান হামলা জোরদার করলে পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ চলছে। কিন্তু বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এই পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে বড় বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে। সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের জন্য স্থল অভিযানও সহজ সমাধান নয়। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, হুথিদের প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাদের পরাস্ত করাকে কঠিন করে তুলেছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল বিমান অভিযানও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে রিয়াদ

হুথিদের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে সৌদি আরব। আঞ্চলিক মিত্ররা প্রতিরক্ষায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির নিরাপত্তায় পাকিস্তান কয়েক হাজার সেনা পাঠিয়েছে এবং মিসরও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে নতুন অস্ত্র সংগ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে রিয়াদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুতেও চাপ রয়েছে। ইরানবিরোধী অভিযানে অস্ত্রের ঘাটতি এবং পুনরায় সরবরাহে উৎপাদনসংক্রান্ত জটিলতার কথা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনীহাও সৌদির জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার সম্ভাবনা তিনি নাকচ না করলেও এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।

সব মিলিয়ে, বিপুল সামরিক ব্যয় ও উন্নত অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের জন্য হুথিদের হামলা ঠেকানো সহজ হচ্ছে না। বিস্তৃত ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, হুথিদের পরিবর্তনশীল যুদ্ধকৌশল, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে রিয়াদকে সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট