
আইয়ুব আলী-চলনবিল প্রতিনিধিঃ
যুব সমাজ অবক্ষয়ের প্রধান কারণ মাদক। মাদক বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজ,পরিবার এবং যুবসমাজের জন্য একটি অন্যতম ভয়াবহ সমস্যা। মাদক আমাদের তরুণ প্রজন্মের মেধা,চিন্তা এবং ভবিষ্যৎকে গ্রাস করছে। মাদকাসক্তি একটি মরণব্যাধি এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পরিবর্তন করে দেয়। মাদক হলো নীরব ঘাতক যা মাদকাসক্তকে বিবেক-বুদ্ধিহীন করে তোলে এবং হতাশা ও মানসিক বিকৃতিগ্রস্থ করে যা মানবিকতার বিলুপ্তি ঘটায়। এরই পরিনাম স্বরূপ ছেলেমেয়েদের হাতে মা-বাবা,ছিনতাই,চাঁদাবাজি,রাহাজানি এখনকার নৈমিত্তিক ঘটনা। সমাজে অধিকাংশ খুনী ও ধর্ষকের পরিচয় সে মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তরাই এধরনের ঘৃণ্য কাজ করে থাকে। মাদকাসক্তরা পরিবার,সমাজ,প্রতিষ্টান ও রাষ্ট্রের বোঝা। এদের নির্মূল করলে আইনশৃঙ্খলার যেমন উন্নতি হবে তেমনি রাষ্ট্রেরও মঙ্গল হবে।
মাদক প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন এনজিও,শিক্ষক,মসজিদের ইমাম বা অন্যান্য ধর্মের বিশিষ্টজন,অভিভাবক,জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
নিষিদ্ধ জগতে অস্ত্রের পর মাদকই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। বর্তমানে দেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে মাদকের কেনাবেচা হয় না। আমাদের দেশে প্রচলিত মাদকদ্রব্যের মধ্যে ইয়াবা,গাঁজা,ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ানক নেশা জাতীয় দ্রব্য সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে গেছে। এসব মাদক আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমার থেকে। আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিরাও বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে সহজে ব্যবহার করছে। মাদক চোরাকারবারিরা সমুদ্র উপকূল ও জলপথকে তাদের পণ্য পাচারের খুবই উপযুক্ত পথ হিসেবে বিবেচনা করে । এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে মাদকের রুট। মাদকদ্রব্য মটরসাইকেলে যাত্রী সেজে বহন করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পাচার করে থাকে।
মাদক চোরাচালানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে প্রয়োজনে ৫,০০০-১্০০০ পিস ইয়াবা বহনকারীকে সীমান্তে বিজিবির মাধ্যমে ক্রসফায়ার দিতে হবে। পুলিশ,ডিবি এবং র্যাবকে বড় ধরনের মাদক ধরলে বিভাগীয়ভাবে পুরস্কৃত করা উচিৎ। মা-বাবারা আর কোন ঐশী দেখতে চায়না,মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অতিষ্ট মায়েরা চিৎকার করে আর্তনাদ করছে,হে রাষ্ট্র আমাদের সন্তানদের রক্ষা কর।