1. news@dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  2. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাতের আঁধারে অবৈধ ভাবে মাটি কেটে বিক্রি,প্রশাসনকে অবগত করা হলেও নেননি কোন ব্যবস্থা ভোলায় অসহায় পরিবারের বসতভিটা ও কবরস্থান দখলের অভিযোগ ভোলাহাটে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুমোদিত ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ানদের দাপ্তরিক পরিচয়পত্র প্রদান বগুড়া সদরে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-৩ নিখোঁজ ১১ দিনের পর ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ লালমনিরহাটে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বেচ্ছাসেবক পার্টির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ​সিঙ্গাইরে নকল প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা উলিপুরে কিশোরী অধিকার ও সুরক্ষা মেলা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় ডিবির বিশেষ অভিযানে চোর চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার,উদ্ধার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন কলমাকান্দায় ভারতীয় পণ্যসহ ট্রাক জব্দ আটক-২ আমতলীতে ক্লিনিং ডে অনুষ্ঠিত দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে মাদক সেবনে ২ জনের কারাদণ্ড সরকার গঠন করতে বিজয়ের সামনে এখন দুই সমীকরণ লিমন ও বৃষ্টিকে ডক্টরেট দেবে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা ডিএনসির অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার ডিএনসির মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার-৩ ​সৎ বাবার হাতে ৫ বছরের শিশু ধর্ষিত,আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন উদ্ধার

নাইক্ষ‍্যংছড়িতে জামায়াতের ভাষা দিবসের শহীদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ২০৭ বার পড়া হয়েছে

হামিদুল হক,নাইক্ষ‍্যংছড়ি(বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

ফলক থেকে নাম মুছে দিয়েই ভাষা আন্দোলনে অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদান মুছে ফেলা যাবে না

হাফেজ মাওলানা মোতাহেরুল হক ৫২-এর ভাষা আন্দোলন জাতি হিসাবে আমাদের জন্য গর্বের এবং প্রেরণার উৎস’ বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য বান্দরবান জেলার ওলামা মশায়েখ পরিষদের সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা মোতাহেরুল হক।

তিনি শুক্রবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭.০০টায় নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলার শাখার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র অফিস হল মিলায়াতনে আয়োজিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বান্দরবান জেলার শূরা সদস্য ও নাইক্ষ‍্যংছড়ি জামায়াতের আমীর মাওলানা ওমর ফারুক সিরাজী’র সভাপতিত্বে এবং জেলার কর্ম পরিষদের সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবু নাসের এর সঞ্চালনায় উপজেলার কর্ম পরিষদের সদস্য, অফিস সম্পাদক ও প্রচার মিডিয়া সম্পাদক নাইক্ষ‍্যংছড়ি দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহমুদুল হক বাহাদুর,উপজেলা ওলামা মশায়েখের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ কাসেম, উপজেলার ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমূখ ।

হাফেজ মাওলানা মোতাহেরুল হক বলেন, ভাষা আন্দোলনের কথা আসলে ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি কথা উঠলেও এর পেছনেও রয়েছে অনেক অজানা ইতিহাস। রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রথম দাবি ওঠে বৃটিশ শাসনামলে ১৯১১ সালে। মূলত, রংপুর শিক্ষা সম্মেলনে নওয়াব আলী চৌধুরী বৃটিশ সরকারের কাছে প্রথম এ দাবি উপস্থাপন করেন। এরপর ১৯১৮ সালে শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দিকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন। ড.হামিদুল মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ দাবির প্রতিবাদ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার জোরালো দাবি উত্থাপন করেন। ১৯৩৬ সালে একই দাবি উত্থাপন করেন মাওলানা আকরাম খাঁ। ১৯৪৬ সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য জিয়াউদ্দীন উর্দ্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করলে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার জোরালো দাবি করেন। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান উর্দ্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করলে জনগণ বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। দুর্বার ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলনে শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা। তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ডাকসুর নির্বাচিত জিএস হিসাবে লিয়াকত আলী খানের কাছে স্মারক লিপিও পেশ করেছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বারবার গ্রেফতার, কারাবরণ ও কলেজের চাকুরী হারিয়েছিলেন। কিন্তু হীনমন্যতার কারণে তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি বরং ডাকসুর জিএসদের নাম ফলক থেকে তার নাম মুুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ফলক থেকে নাম মুছে ফেলেই দেশ, জাতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদান মুছে ফেলা যাবে না। তিনি হীন্যমনতা পরিহার করে সরকারকে অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার আহবান জানান।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ ও জাতি নতুন দিশা পেলেও দেশ এখনো বৈষম্যমুক্ত হয়নি। এমন দিশা আমরা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পেয়েছিলাম। সেদিন সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করেছিলো। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। বিগত প্রায় সাড়ে ১৫ বছর দেশ ও জাতির ঘাড়ে আওয়ামী স্বৈরাচারের জগদ্দল পাথর চেপে বসেছিলো। দেশকে পরিণত করা হয়েছিলো জুলুম- নির্যাতন, খুন-ধর্ষণ এবং দুর্নীতি-লুটপাটের অভয়ারণ্যে। কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে জাতীয় নেতাদের একের পর এক হত্যা করা হয়েছিলো। কিন্তু আগস্ট বিপ্লবের পরও আজও বৈষম্য দূর হয়নি। সকল রাজবন্দী মুক্তি লাভ করলেও অসুস্থ জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনো কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন। তিনি আবিলম্বে জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় দুর্বার গণআন্দোনের মাধ্যমে জনগণ দাবি আদায় করেই ছাড়বে।

মোতাহেরুল হক বলেন, আওয়ামী- ফ্যাসীবাদীরা পতনের আগের রাষ্ট্রের সকল অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারের আগে কোন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে অর্জিত বিপ্লব ও বিজয় ব্যর্থ হবে। তাই সবার আগে দরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন। একই সাথে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিশ্বের ৬২ টি দেশে এ পদ্ধতি চালু আছে এবং তারা এর সুফল পাচ্ছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষ সাংসদের মাধ্যম সংসদ সমৃদ্ধ হবে। তিনি সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা, দারিদ্র, অপশাসন ও দুঃশাসন মুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে সকলকে একদফায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা ওমর ফারুক সিরাজী বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম হলেও তাকে অবমূল্যায়ন করে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে ‘২১ পদক থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি সকল প্রকার হীনমন্যতা পরিহার করে শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযমকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার আহবান জানান।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২৬,আমাদের প্রকাশিত সংবাদ,কলাম,তথ্য,ছবি,কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট