
এ এইচ রুবেল,টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও নির্মিত হয়নি লৌহজং নদীর উপর ব্রিজ। লৌহজং নদীর দুই পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ছোট্ট একটি খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে এসব মানুষ। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ৭ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক এবং স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
দীর্ঘদিন ধরে জন প্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোন পদক্ষেপ না পাওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। স্থানীয়রা দ্রুত ব্রিজ নির্মানের দাবি করেন।
উপজেলার জুয়াদ আলী মোড়ের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে যমুনার শাখা নদী লৌহজং। লৌহজং নদীর উত্তর পাশে রামপুর, গোপিনাখপুর, রায়ের বাসালিয়া, খন্দকার পাড়া, ভূঁইয়া পাড়া সহ ৬/৭টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। শাখা নদীটির দু’পাশে সংযোগ সড়ক থাকলেও নদীর উপর নেই সংযোগ ব্রিজ। যাতায়াতে একমাত্র ভরসা ছোট্ট খেয়া নৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষ পাড়াপাড় হয় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকায়। অনেক সময় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। আবার অসুস্থ রোগীদের নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। রাতের বেলায় অনেক সময় নৌকায় মাঝি না থাকলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে পার হন অনেকে।
ভেঙে যাচ্ছে বিয়ে এছাড়াও ব্রিজের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে পারছেন না অনেকেই। ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত ব্যবস্থার অযুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে যায় বর ও কনে পক্ষের লোকজন। এমনকি জরুরী প্রয়োজনে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত করতে না পারায় ছিন্ন হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজ না থাকায় যাতায়াতে একমাত্র ভরসা ছোট খেয়ানৌকা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। অনেক সময় পারাপারের জন্য খেয়ানৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণের জন্য।
স্থানীয়রা বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক এমপি ও জনপ্রতিনিধি শুধু আশ^াস দেয়, কেউ এই ব্রিজটি করে দেয় না। শুধু বলেই ব্রিজ করে দিবো, কিন্তু এই ব্রিজ করে দেয় না। এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ভূমিকা নেয়া হয়নি। যার ফলে আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
রামপুর গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দীন ও বশির মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা খেয়া নৌকা দিয়ে উপজেলা শহর ও হাট বাজারে যাতায়াত করি। নৌকা দিয়ে ফসল পারাপার করতে আমাদের বেশি কষ্ট হয়। এছাড়াও আমাদের সন্তানরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করে। ব্রিজ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই খেয়া নৌকাটিই আমাদের একমাত্র ভরসা। এখানে একটি সেতু হলে আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।
খন্দকার পাড়ার আব্দুর রশিদ, হানিফ আলী বলেন, যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের সাথে কেউ আত্মীয়তা করতে চায় না। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রোগীদের অবস্থা আশঙ্কা হয়ে যায়। সময় মতো আমরা হাসপাতালে যেতে পারি না। নৌকা দিয়ে পারাপারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন আমাদের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী ও মা বোনেরা।
স্থানীয় বাদশা মিয়া বলেন,এটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এখানে একটি ব্রিজ হলে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি সহ আমরা আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বচ্ছলতা লাভ করবো। সেই সাথে দূর হবে যাতায়াতের দুর্ভোগ।
কর্তৃপক্ষ যা বলছে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, সরেজমিনে আমরা জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এখানে একটি ব্রিজটি অতীব জরুরি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ওইখানে ব্রিজ করলে থাকবে (স্থায়ী হবে) কি না তা আমরা যাচাই বাছাই করছি। তবে যাচাই বাছাই করে দ্রুতই সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।