1. : lf_DywtXa9AH2Ai :
  2. live@www.dainikalokitonews.com : - : - -
  3. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টুঙ্গিপাড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ পোনা অবমুক্ত ও বর্ণাঢ্য র‍্যালি মাদারীপুরে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের বাম্পার ফলনেও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাসের নতুন পাতা,ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশকে ৯ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় উপহার দিলেন মিরাজ-হাসান মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে মিশরের যোগদানের সম্ভাবনা,এরদোয়ান গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন শ্যামল পৃথিবীর কোমল ছায়া আমাদের নিরাপদ আশ্রয়-ড. আব্দুল ওয়াদুদ খোলা হাঁটি শিল্প-বাণিজ্য মেলার আড়ালে বিদ্যুৎ অপচয় ও গভীর রাতে লটারি-জুয়ার অভিযোগ খালেদা জিয়ার জন্মদিনে টুঙ্গিপাড়ায় যুবদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল মুকসুদপুরে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির আলোচনা ও দোয়া মাহফিল বীরগঞ্জে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

গ্যাস সংকটে স্থবির জনজীবন

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ অগাস্ট, ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল আজ এক গভীর ও নীরব স্থবিরতার আবর্তে বন্দি। তীব্র গ্যাস সংকটের কালো ছায়া গোটাদেশের জনজীবন, পরিবহন খাত এবং অর্থনীতিকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে দেশের প্রায় প্রতিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি আর চালকদের চোখে-মুখে ক্লান্তি ও হতাশার ছাপ এখন নিত্যদিনের চেনা দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবং রেশনিং বা সীমিত সময়সীমার বেড়াজালে পড়ে দেশের জ্বালানি খাত এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের একটি বড় অংশ ফিলিং স্টেশনের সামনে নির্ঘুম অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত গ্যাসের দেখা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিক, পেশাদার চালক এবং সাধারণ মানুষ।

এই জ্বালানি সংকট কেবল একটি সাময়িক লজিস্টিক সমস্যা নয়; এটি লাখো মানুষের রুটি-রুজি এবং গোটাদেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, মিনিবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা ভোররাত বা গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। গ্যাস সংগ্রহের এই অসম প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে হাতাহাতি, বাকবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পরিবহন সংকট চরমে ওঠায় অফিসগামী চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রোগী এবং সাধারণ যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় বাহন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে কিংবা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নগরবাসীর এই দৈনন্দিন অসহায়ত্ব এখন সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃতপ্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত নানা জটিলতাই আজকের এই ভয়াবহতাপূর্ণ পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ভারী শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাহিদা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেটাতে গিয়ে বাধ্য হয়েই সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো পরিবহন ব্যবস্থার ওপর। সময়মতো পরিবহন চলাচল করতে না পারায় সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার পরোক্ষ আঘাত এসে পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

রাজধানীসহ গোটাদেশের এই জ্বালানি স্থবিরতা আজ কেবল একটি খবরের শিরোনাম নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পথে এক বড় অন্তরায়। চালক ও গ্রাহকদের এই অন্তহীন দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবং স্বাভাবিক জনজীবন দ্রুত ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। অন্যথায়, এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে স্থায়ীভাবে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

এদিকে রাজধানীতে তীব্র রূপ নিয়েছে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) সংকট। ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। পর্যাপ্ত চাপ (প্রেসার) না থাকায় চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না, কোথাও আবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে স্টেশন। এতে করে যেমন গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের দৈনিক আয় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তেমনই চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন ফিলিং স্টেশন মালিকরা। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পুরো রাজধানীজুড়ে পরিবহন অচলাবস্থার আশঙ্কায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল শনিবার ছুটির দিনেও রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশে থাকা সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, প্রাইভেটকার ও রাইড শেয়ারিংয়ের গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে ও ঘামে ভিজে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

চাপের চরম ঘাটতি: ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় একটি গাড়িতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি সময় লাগছে। অপেক্ষার প্রহর: সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও বিকেলের আগে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আয় বন্ধের পথ: দিনচুক্তি বা দৈনিক ভিত্তিতে গাড়ি চালানো চালকরা জানাচ্ছেন, দিনের বড় একটি অংশ লাইনে চলে যাওয়ায় খেপ মারার সুযোগ কমে গেছে। ফলে দিন শেষে জমার টাকা তুলে পরিবারের খরচ চালানো দায় হয়ে পড়েছে।

পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের পাম্পের কমেপ্রসরগুলো প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস দিতে পারছে না। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দৈনিক বিক্রি এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। এতে পরিচালন ব্যয় তোলাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের পাম্পের কমেপ্রসরগুলো প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস দিতে পারছে না। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দৈনিক বিক্রি এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। এতে পরিচালন ব্যয় তোলাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রভাব কেবল ফিলিং স্টেশনেই সীমাবদ্ধ নেই। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতেও গ্যাস থাকছে না বলে অভিযোগ করছেন বাসিন্দারা। গ্যাসচালিত গণপরিবহন (বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা ও সিটি বাস) সময়মতো সিএনজি না পাওয়ায় রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলক কমেছে। এর সুযোগে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করছেন সাধারণ যাত্রীরা। পরিবহন খাত ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সিএনজি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে এর প্রভাব পুরো জাতীয় অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থায় পড়বে।

পরিবহন স্তব্ধ হওয়ার ঝুঁকি: বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত যানবাহন জ্বালানির অভাবে অচল হয়ে পড়লে রাজধানীতে কৃত্রিম পরিবহন সংকট তৈরি হবে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি: পণ্য পরিবহনকারী হালকা যানবাহন ও সিএনজি-চালিত পিকআপগুলোর পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা: সংকট সমাধানে সরকারের তরফ থেকে কোনো স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বা সময়সীমা না পাওয়ায় ফিলিং স্টেশন মালিক ও চালক উভয়ের মধ্যেই তৈরি হয়েছে চরম হতাশা।

পরিশেষে বলা যায়, তীব্র গ্যাস সংকট আজ কেবল একটি সাময়িক পরিবহন সমস্যা বা লজিস্টিক জটিলতা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর এক গভীর আঘাত। রাজধানী থেকে গোটাদেশের এই স্থবিরতা নিরসনে জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। এলএনজি আমদানির বাধা দূর করা, অভ্যন্তরীণ গ্যাস উত্তোলনে গতি আনা এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। চালক ও গ্রাহকদের এই অন্তহীন দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট