1. : lf_DywtXa9AH2Ai :
  2. live@www.dainikalokitonews.com : - : - -
  3. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২২ অপরাহ্ন

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট,তবু বাড়ছে লোডশেডিং

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও চাহিদার অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। গ্যাস ও কয়লার সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া, ডলার ও অর্থের ঘাটতি এবং কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই নাজুক হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে সারা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বেড়েছে লোডশেডিং।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। ওই সময় ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৭২২ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি ৫৪৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে ঢাকা অঞ্চলে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবশ্য কোনো লোডশেডিং হয়নি। তবে ঘণ্টার হিসাবে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে পরিস্থিতি বেশি খারাপ ছিল।

ক্রমেই অবনতিশীল পরিস্থিতি

আগের দিন দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। আর ৩ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকেও লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়।

মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল মাত্র ৪৮৮ মেগাওয়াট। সে তুলনায় সর্বশেষ সর্বোচ্চ লোডশেডিং সাত গুণেরও বেশি।

বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্তমান সংকটের মূল কারণ জ্বালানি এবং অর্থ ও ডলারের ঘাটতি। দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও সেগুলো চালানোর মতো প্রয়োজনীয় গ্যাস, কয়লা ও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র বেশি সময় চালালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসান ও সরকারের ভর্তুকির চাপ আরও বাড়বে।

গ্যাস সংকটে কমেছে উৎপাদন

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি গ্যাস। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় এসব কেন্দ্রের বড় একটি অংশ অলস রাখতে হচ্ছে।

কিছুদিন আগেও গ্যাস থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমেছে।

গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। দুর্ঘটনার আগে দেশে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ কমে প্রায় ২১৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

পরে টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি। প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশনের সক্ষমতা থাকা টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে মেরামতকাজ চলছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও সংকটের মধ্যে তা কমে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। ফলে তুলনামূলক কম ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব এমন গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোরও বড় অংশ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এলএনজি সরবরাহেও নতুন চাপ

মহেশখালীর টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হওয়ার আগেই অন্য একটি এলএনজি টার্মিনাল নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা একটি এলএনজি কার্গো সামিটের ভাসমান টার্মিনালে নির্ধারিত সময়ে যুক্ত হতে পারেনি। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আবার কমেছে।

কয়েক দিন ধরে দৈনিক প্রায় ২৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও তা আবার প্রায় ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তবে এলএনজি কার্গোটি টার্মিনালে যুক্ত হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রেও কমেছে উৎপাদন

গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ৯৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট।

পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট ২ আগস্ট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন একসময় অর্ধেকে নেমে আসে। পরে ইউনিটটি চালু করে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তবে কেন্দ্রটির বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে। সময়মতো বিল পরিশোধ করা না হলে ভবিষ্যতে কয়লা সরবরাহেও সংকট দেখা দিতে পারে।

পটুয়াখালীর আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাস ও পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। সমুদ্রে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে কয়লা স্থানান্তরে বিলম্ব হওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন কমেছে।

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহেও ঘাটতি

ভারতের ঝাড়খণ্ডে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেও কয়েক দিন ধরে সরবরাহ কমেছে। সাধারণত কেন্দ্রটি বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। তবে ঝাড়খণ্ডে বৈরী আবহাওয়া ও কয়লা সরবরাহের সমস্যার কারণে সরবরাহ কমে ৮০০ থেকে ১ হাজার মেগাওয়াটে নেমেছে।

আদানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদনও বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও পুরোপুরি কাজে আসছে না।

তেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল

গ্যাস ও কয়লার উৎপাদন কমে গেলে দ্রুত বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের অন্যতম উপায় তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানো। দেশে এ ধরনের কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। তবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় কয়েক গুণ বেশি।

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে গড় ব্যয় প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময় লোডশেডিং কমাতে এসব কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানো হলেও রাত গভীর হলে ব্যয় কমাতে অনেক কেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে মধ্যরাতের পর কোনো কোনো সময়ে লোডশেডিং আবার বেড়ে যায়।

বকেয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বকেয়া এখন প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনাই প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নতুন করে জ্বালানি কেনার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সীমিত জ্বালানি মজুত নিয়ে কোনো কোনো কেন্দ্র রাত পর্যন্ত উৎপাদন চালানোর পর উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে।

এর মধ্যেই গত জুনে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপুল বকেয়া পরিশোধে সক্ষম হয়নি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি নয়, বরং জ্বালানি ও অর্থসংকটই বর্তমান লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কয়লা ও এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করা না গেলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি কঠিন হতে পারে। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট