
শরীফ ফায়েজুল কবীর,মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাম, লোগো এবং জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে একটি ভুয়া বালু উত্তোলনের অনুমতিপত্র তৈরির ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতারক চক্রটি জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে জেলা প্রশাসন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মাধবদী গ্রামের মো: রুবেল মিয়া পিতা: আবদুল বাশার মীর এর নামে একটি বানোয়াট অনুমতিপত্র (স্মারক নম্বর:০৫.৪১.৫৪০০.০০০.১১৫.৯৯.০০২১.২৬.২৯০, তারিখ: ০৭ জুলাই ২০২৬) ইস্যু করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন অবগত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়- ওই ভুয়া পত্রে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে ৩ মাসের জন্য বালু উত্তোলনের কথিত অনুমতির কথা বলা হয়েছে। অথচ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মাদারীপুর-এর এসএ/রাজস্ব শাখা থেকে এই ধরনের কোনও অনুমতিপত্র প্রদান বা ইস্যু করা হয়নি। তারা আরও জানিয়েছেন- পত্রে ব্যবহৃত স্বাক্ষর, স্মারক নম্বর ও অন্যান্য তথ্যাদি সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন এবং প্রতারণামূলক এবং সরকারি নিয়মানুযায়ী নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য এই ধরনের ব্যক্তিগত অনুমতি প্রদানের কোনো আইনি সুযোগ নেই।এহেন জাল-জালুয়াতি ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের সকল অফিস আদেশ, প্রজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশনা শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট, অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং অনুমোদিত সরকারি মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনও অননুমোদিত উৎস্য থেকে কোনো আদেশ বা বিজ্ঞপ্তি প্রাপ্ত হলে তা যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসাথে কোনও আদেশের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ হলে সরাসরি ডিসি অফিস কার্যালয়, দপ্তরে বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে তথ্যের মাধ্যমে তা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।জেলা প্রশাসন আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, ভুয়া অফিস আদেশ তৈরি, প্রচার বা শেয়ার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের অপকর্ম ও জাল-জালিয়াতির সাথে জড়িত চক্র/ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।