
ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, অসৌজন্যমূলক আচরণ, সাংবাদিকের কাজে বাধা প্রদান এবং ‘মার্কা’ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে অফিস সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমা কাউন্টার ১০৮-এ দায়িত্ব পালনকারী একাউন্ট্যান্ট মোঃ নাজমুল হুদা, কাউন্টার ২০৮-এ দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রনি মোহন সরকার এবং নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ সালমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অতিরিক্ত অর্থ ছাড়া সহযোগিতা না করার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কিছু ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে ‘মার্কা’ নামে একটি বিশেষ সংকেত ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ফাইল জমা নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১ হাজার টাকার বিনিময়ে এ ধরনের ‘মার্কা’ সংগ্রহ করা যায় এবং ফাইলের নির্দিষ্ট অংশে ওই সংকেত থাকলে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকলেও সহজেই ফাইল গ্রহণ করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন ঘুরানো হয়।
এ ঘটনায় বড়লেখা উপজেলার এক সেবাগ্রহীতা প্রতিবাদ জানালে অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি মো. হাসান আহমেদ ইয়ামিন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সাংবাদিকের মোবাইল ফোন জব্দ করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী পরিচালক ও অফিস প্রধান মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করা হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, জনগণের গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।