
সরাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
সরাইল–অরুয়াইল সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে, যা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে কিছু অসাধু পরিবহন চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। ফলে প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াতকারী শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশেষ করে সকাল-বিকালের ব্যস্ত সময়ে, বৃষ্টি, রাস্তার ভাঙা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি কিংবা যানবাহনের সংকটের অজুহাতে ভাড়া আরও বাড়িয়ে নেওয়া হয়। এতে প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের তর্ক-বিতর্ক ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আবুল কালাম নামে এক যাত্রী জানান, গতকাল সকালে অরুয়াইল সিএনজি স্টেশন থেকে সরাইল বিশ্বরোডে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। আগে থেকেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি জানতেন বলে চালকের কাছে ভাড়ার জানতে চান। চালক প্রথমে ১৫০ টাকা দাবি করেন, পরে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ১২০ টাকায় যেতে বাধ্য হন।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে সিএনজি চালক সোহেল ও মোছা মিয়া বলেন, “রাস্তা ভাঙ্গা, সংস্কার কাজ চলছে অনেক পথঘুরে যেতে হয়। এতে গ্যাস খরচ বেড়ে যায়। গ্যাসের দামও বেশি, তাই খরচ মেটাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবে এ ধরনের অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, পূর্বে প্রশাসনের সমন্বয়ে সরাইল পর্যন্ত ৫০ টাকা এবং বিশ্বরোড পর্যন্ত ৬০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এখনও বহাল থাকার কথা। কিন্তু কিছু সিএনজি চালক বিভিন্ন অজুহাতে সেই নির্ধারিত ভাড়া মানছেন না এবং ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। তিনি বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপনের আশ্বাস দেন এবং চালকদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে সহনশীল হওয়ার আহ্বান রাখেন।
অরুয়াইল বাজারের সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী খায়রুল বাশার বলেন, “অরুয়াইলে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও এ বছর শিক্ষার্থীদের সরাইলে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। রাস্তার ভাঙা অবস্থার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি সম্প্রতি সরাইলে যোগদান করেছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি চাই সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হোক এবং সবার সহযোগিতায় একটি আধুনিক সরাইল উপজেলা গড়ে তুলতে চাই।”
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ ও দৃশ্যমান স্থানে টানানো এবং যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।