
আবু হোসেন,ডিমলা(নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলায় বিগত সরকারের আলম হতে বর্তমান সরকার দলীয় কিছু নেতাকে অর্থের বিনিময়ে হাত করে জহির উদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী প্রায় দেড়যুগ ধরে ডিমলা খাদ্য বিভাগকে নিজ জিম্মায় রেখে খাদ্য বিভাগের যাবতীয় সুযোগ সুবিধার একক ফায়দা লুটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন কি ডিমলা সরকারী খাদ্য বিভাগের মাষ্টাররোল বই জহিরের ব্যক্তিগত অফিস থেকে নিয়ন্ত্রন করার অভিযোগ করেছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগি ডিলারগণ। তারা আরো বলেন, ডিমলা খাদ্য বিভাগের সকল কাজ জহিরের ইশারায় নিয়ন্ত্রন হয়। জহিরের ইশারা ছাড়া খাদ্য বিভাগের কেনাকাটা বিতরন কোন কিছুই করেন না কর্তব্যরত কর্মকর্ত কর্মচারীরা।
গত আওয়ামী আমলে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নিয়োগপ্রাপ্ত থাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় মোট ৪১জন ডিলারকে টিকিয়ে রাখতে জহির তার ব্যক্তিগত ব্যয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনের মাধ্যমে তাদের পক্ষে রায় নিয়ে বর্তমান ডিলার হিসেবে টিকিয়ে রাখেন তাদের। এমন কি ওই ৪১ জন ডিলারের ব্যাংক ট্রেজারি পর্যন্ত করেন এই জহির। বিনিময়ে ডিলারদের হাতে ধরিয়ে দেন যতসামান্য কিছু লভ্যাংশ। ধান ক্রয় মৌসুমে জহির উদ্দিন সরকার দলীয় কিছু অসাধূ নেতাদের মাধ্যমে সাধারন কৃষকদের হুমকি প্রদান করে তাদের স্লিপ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযােগ করেছেন নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক বেশকিছু সাধারন কৃষক।
সম্প্রতি জহিরের এহেন কর্মকান্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে উঠে আসে জহিরের খাদ্য বিভাগে রাম রাজত্বের সকল কর্মকান্ড।
কয়েকজন ডিমলার অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য বান্ধবের চাল বিতরনে বড়বস্তা দিবে বলে জহিরের মাধ্যমে প্রতি ডিলারের নিকট ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তাকে ৮ হাজার ৫শ, সাংবাদিকদের ৩শ, খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ১২শ করে টাকা উত্তোলন করা হয়। এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরো জানাযায় ডিমলা খাদ্য ইন্সপেক্টর শামিম প্রতি ডিলারের নিকট বড়বস্তা দেয়ার নাম করে আলাদা তার ব্যক্তিগত ৬ হাজার টাকা করে উৎকোচের বিনিময়ে সরকারী ছুটিরদিন শুক্রবার রাতে চুপিসাড়ে উৎকোচ প্রদান করা ডিলারদের বড়বস্তা সরবরাহ করেন।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনার রশিদ,ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা নবাব আলীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের কর্মস্থলে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তারা ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জহির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।