1. news@dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  2. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
যুদ্ধজাহাজে নতুন করে গোলাবারুদ সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র বৃষ্টির বাগড়া সবজির বাজারে, অস্বস্তিতে ক্রেতারা বীরগঞ্জে মাদক বিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি বিদেশ ভ্রমণে সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা গুজবের আড়ালে সত্য: ‘গলা কাটা’ নয়, খেলতে গিয়ে রডে আঘাতে আহত শিশু রাহাত টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইটভাটার গ্যাসে ফসল নষ্ট ক্ষতিপূরণের দাবি হরমুজ প্রণালি চালু করতে নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বড় সুখবর দিলো সরকার জঙ্গি ইস্যুতে সরকারের ভেতরেই দুই সুর ইরানকে ‘দ্রুত বুদ্ধিমান হতে’ সতর্ক করলেন ট্রাম্প মাদক সেবনে যুবক গ্রেফতার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড অদিতা হত্যা মামলার রায় আজ মিঠাপুকুরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে অব্যহতি এবার বাড়ছে ট্রেনের ভাড়া রংপরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে উৎসবমূখর পরিবেশ উদযাপন ও পরবর্তীতে গংগাচড়া উপজেলায় রমাকান্ত খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনঃ জেলা প্রশাসক কাহালুতে ট্যাপেন্টাডলসহ ৩ জন আটক,ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা মাদারীপুরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস বর্ণাঢ্য র‍্যালী,বৃক্ষরোপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মাগুরা জেলা ডিবি পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ গ্রেফতার-১ সরাইলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা: মাদক, চুরি ও বাল্যবিবাহ রোধে জোরালো পদক্ষেপের নির্দেশ নান্দাইলে বৃস্টির পানিতে তলিয়ে গেছে জাহাঙ্গীরপুর আলিম মাদ্রাসা

গাবতলীতে বিএনপি নেতা ও অ্যাডভোকেট শিপন গভীর রাতে নারীসহ হাতেনাতে আটক, অতঃপর বিয়ে—আইনের রক্ষক নাকি ভক্ষক?

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১২৯ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের তেলিহাটা গ্রামে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে এখন আইনের নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার নিয়েই তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় জনগণের হাতে একই কক্ষ থেকে আটক হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বগুড়া ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিপন আলী এবং একই গ্রামের ইসমাইলের মেয়ে ঈশিতা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই ঈশিতার ওই বাড়িতে যাতায়াত নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসায় এলাকাবাসী নজরদারি বাড়ায়। শনিবার গভীর রাতে দুজনকে একই কক্ষে অবস্থান করতে দেখে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রথমে উপস্থিত জনতার সামনে অ্যাডভোকেট শিপন আলী বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ঈশিতা জানান, শিপনের আগের ডিভোর্সের পর তার সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়েছিল এবং গত ৫ সেপ্টেম্বর সেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে কোনো রেজিস্ট্রি কাবিননামা বা কাজির পরিচয় তিনি পাননি বলে অভিযোগ করেন।
ঈশিতার অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কারণে শিপন আলী বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখেন এবং রাতের আঁধারে তার সঙ্গে দেখা করতেন। কাবিননামার কাগজ চাইলে তাকে ভয়ভীতি, মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে ঈশিতার বাবা ইসমাইল বলেন, বিয়ে ছাড়াই একজন পুরুষ নিয়মিত তার বাড়িতে যাতায়াত করায় সামাজিকভাবে তাকে চরম অপমান সহ্য করতে হয়েছে। একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের বিষয় অস্বীকার করে প্রচারণা চালানো হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গাবতলী থানার ওসির নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসী ও উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে গভীর রাতে নতুন করে একজন কাজির মাধ্যমে ৭ লাখ টাকা মোহরানায় ঈশিতার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অ্যাডভোকেট শিপন আলী। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর রাতেই তিনি স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাসায় চলে যান বলে জানা গেছে।
তবে এই ঘটনার পর আলোচনা থেমে নেই। স্থানীয়দের পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অ্যাডভোকেট শিপন আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সরলতার সুযোগ নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরবর্তীতে শারীরিক সম্পর্কের পর মানসিক চাপ ও ব্ল্যাকমেইলের মতো গুরুতর বিষয়ও জনমনে আলোচিত।
এই প্রেক্ষাপটে সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে জোরালো দাবি উঠেছে—বিষয়টি যেন সংশ্লিষ্ট বার কমিটি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত অ্যাডভোকেটের আইন পেশার লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জনসাধারণের মতে, যে ব্যক্তি আইনের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আইন পেশায় যুক্ত, তিনি যদি বারবার আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে নিজেকে রক্ষা করার কৌশল তৈরি করেন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেন, তাহলে তা সমাজে ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এতে অন্যরাও উৎসাহ পেয়ে একই ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার সাহস পেতে পারে।
সচেতন মহলের অভিমত, এই ধরনের অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট যেন ভবিষ্যতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি আইনগত কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে না পারেন—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আইনের রক্ষক যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তাহলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য কোথায় যাবে—এই প্রশ্নই এখন গাবতলীর অলিগলি থেকে আদালত প্রাঙ্গণ পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২৬,আমাদের প্রকাশিত সংবাদ,কলাম,তথ্য,ছবি,কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট