
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার প্রভাব শালী আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা জজ কোর্টের সাবেক পিপি এডভোকেট জসীম উদ্দিন (পিপি জসীম) এবং তাঁর পরিবারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভুক্ত ভোগীদের একটি পক্ষের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার সুবিধা ভোগী হয়েও তিনি দলের দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াননি; বরং আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আদর্শের সঙ্গে আপস করেছেন। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে মাহিরের জুলাই আন্দোলনে বিতর্কিত ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসন আমলে লক্ষ্মীপুর জেলায় অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থক হত্যা কাণ্ডের শিকার হন। সে সময় ভুক্ত ভোগী পরিবার গুলো বিচার ও সহযোগিতার জন্য তৎকালীন পিপি জসীমের শরণাপন্ন হলেও, তিনি তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন, বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের আইনি সহায়তা না দিয়ে আসামিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বলেও ভুক্ত ভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে সাম্প্রতিক জুলাই জ* ঙ্গী হামলায় ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পদপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পিপি জসীমের পরিবারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর ছেলে মাহির জসীম জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীরা বছরের পর বছর জেল-জুলুম ও মামলা-হামলার শিকার হয়েও দলীয় পদ-পদবি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অথচ একটি সুবিধা ভোগী সিন্ডিকেট ও তাদের উত্তর সূরিরা কেবল পিতৃ পরিচয়ের জোর করে দলের বড় পদ ও নেতৃত্ব দখল করে আসছেন।
বর্তমানে এডভোকেট জসীম পুনরায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে সাধারণ নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের একাংশ তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে বয়কট করার ডাক দিয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি অনুসন্ধানী টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।