
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের চরচ্ছিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাজনাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে মাজনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে এই কাঁচা সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার বা উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে এবং তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি ও দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, তখন যাতায়াত একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে।
স্থানীয় অটোরিকশা চালক আকরব জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে যানবাহন চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দের ঝাঁকুনিতে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঘন ঘন নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি যাত্রীদেরও পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।
মাজনাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়ূব আলী, লিমন মিয়া, ইতি আক্তার ও আবু সায়েম জানায়, প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়েই তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তা খারাপ থাকায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর, বিশেষ করে বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মানির ও মানিক বলেন, রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে মালামাল পরিবহনসহ ব্যবসায়িক দৈনন্দিন কাজে নানা লোকসান ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রাস্তাটি পাকা করা হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ দূর করতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন যেন দ্রুত এই সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে মনসুর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সোনিয়া খাতুন বলেন, “রাস্তাটি আমি দেখেছি। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, কৃষক, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ যাত্রাতায় করেন। রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। আমি এর আগেও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আবারও বলব।