
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অধিবেশন কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া মন্তব্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় সদস্যরা কড়া আপত্তি জানালে হট্টগোল ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্পিকারের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিভিন্ন দাবিতে শেষপর্যন্ত সংসদ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করে বিরোধী জোট।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে। সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চান। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্নটিকে ‘শাহবাগ স্কয়ারের বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। হট্টগোলের মুখে একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের আসনে বসে পড়েন এবং স্পিকারের সুরক্ষা কামনা করেন।
পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, এটি অতীত সরকারের আমল নয়, যেখানে স্বাধীনভাবে সমালোচনা করা যেত না। পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান ফ্লোর পান। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংসদের ভেতরে এ ধরণের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য কার্যপ্রণালী থেকে বাদ বা এক্সপাঞ্জ করতে হবে। নতুবা অপমান সহ্য করে সংসদ কক্ষে অবস্থান করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় বিরোধী দলের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্পিকার জানান, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখবেন এবং সেখানে কোনো অসংসদীয় শব্দ পাওয়া গেলে তা এক্সপাঞ্জ করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদে একে অপরের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার প্রবণতা দেখে সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা ও বিরক্তি প্রকাশ করেন স্পিকার।
এই অধিবেশনে এনসিপির সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মব সহিংসতা প্রতিরোধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিচার নিজের হাতে তুলে নেওয়া কঠোরভাবে বন্ধে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দিনের অধিবেশনের শেষের দিকে বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপনের প্রতিবাদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ এনে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী জোটের সদস্যরা। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি বিল উত্থাপন করা হয়।