
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ করেই বদলে গেছে হিসাব–নিকাশ। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিলের আদেশ খারিজ করে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইসি ভবনে আপিল শুনানির চতুর্থ দিনে দেওয়া এই সিদ্ধান্তে আসনটিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা-২ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ খুলে গেছে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম। জামায়াত প্রার্থীর প্রত্যাবর্তনে ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও ভোটাররা।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় ঢাকার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম কর্নেল (অব.) আবদুল হকের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশ বাতিল করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
ঢাকা-২ আসনের নয়াবাজার এলাকার এক ভোটার আবদুস সালাম বলেন,“মনোনয়ন বাতিল হওয়ার খবর শুনে অনেকেই হতাশ হয়েছিল। এখন প্রার্থী ফিরে আসায় ভোটের একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এতে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়ল।”কেরানীগঞ্জের গুইটা এলাকার গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন,“আমরা চাই ভোট হোক, লড়াই হোক। একতরফা নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে না। এখন অন্তত ভোট দেওয়ার পরিবেশ হবে বলে আশা করছি।”
কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (রাওয়া)-এর সভাপতি। অবসর-পরবর্তী সময়ে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় কর্নেল (অব.) আবদুল হক বলেন, তিনি আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাশীল। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা ও এলাকার উন্নয়নেই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।”
ঢাকা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৫ জন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত প্রার্থীর প্রত্যাবর্তনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমানের সঙ্গে লড়াই আরও জমে উঠবে। এতে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।
বালুরচরের তরুণ ভোটার সাইফুল ইসলাম বলেন,
“আমরা চাই এমন নির্বাচন, যেখানে ভোট দিয়ে মত প্রকাশ করা যাবে। এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচনটা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে এবং মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে।”