
সাবেল আহমদ,সিলেট প্রতিনিধিঃ
এক সময় যেখানে কোরান তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল ও জিকিরের মধুর আওয়াজে কম্পিত হত পুরো এলাকা। সমাগম ছিল মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্মের লোকের। দূর দুরান্ত হতে শিরনী নিয়ে আসতেন অসংখ্য ভক্ত ও আশেকান। আজ ভাঙ্গনের মুখে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ধীরে ধীরে ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতাধিক বছরের উতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউপির শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ। শুধু শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ নয়। কুশিয়ারার নদী ভাঙনের ফলে নদীর পেটে চলে গেছে এখানকার অসংখ্য বসতভিটা, মসজিদ, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদের ভাঙন ঠেকাতে কার্যকরী প্রদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাজারের পাশে মসজিদে যাওয়া আসার একমাত্র রাস্তাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার লোকজন নিজ উদ্যোগে মাজার ও মসজিদের ভাঙন রোধ করলেও এবার গত কয়েক দিন ধরে তীব ভাঙ্গনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে মাজার ও মাজার মসজিদ ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এবার নতুন করে তীব্রভাবে ভাঙন দেখা দেওয়ায় হযরত শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) এর মাজারের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে? এতে যে কোন সময় শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদ মাজার ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তারা মনে করছেন মাজার ও মসজিদ হারিয়ে গেলে তাদের একটি ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের কেন্দ্র বিলীন হয়ে যাবে।
এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বি আব্দুল কুদ্দুস ও সমাজসেবক জেড রহমান জুনু, শাহ সৈয়দ শদাই (রঃ) মাজার ও মাজার মসজিদের খাদেম ও উপজেলা শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর ইসলাম গেদা সহ বেশ কয়েকজন জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ নদীর ভাঙ্গনের ফলে অনেক লোক বাড়িঘড় ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব। এ অবস্থায় শাহ সুফি সৈয়দ শদাই (রঃ) এর মাজার ও মসজিদ সিলেট-৬ আসনের সাংসদ এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলাপরিষদের প্রসাশক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম সহ সরকারের উধর্বতন কতৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।
শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম কবির উদ্দিন বলেন- আমি তিনবার গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করেছি। কিন্তু কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। কয়েকদির পরপর কোন না কোন কর্মকর্তা শুধু আসেন। আর দেখে যান, এ অবস্থা চলতে আছে।
এবিষয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন- সিলেট-৬ আসনের এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী কথা বলেছেন। শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।