
শরীফ ফায়েজুল কবীর,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
পদ্মা নদীর অববাহিকায় অবস্থিত শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার গঙ্গানগর বাজারে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব স্বপ্ন “সাহিত্য নিকেতন পাঠাগার” কালের স্বাক্ষী হয়ে। সময়ের সাথে-সাথে অনেক কিছু বদলেছে, কিন্তু এই পাঠাগারটি এখনো অপেক্ষায় নতুন পাঠকের আগমনে, নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হবার হাতছানিতে।
এক সময় এখানে বইয়ের পাতায়-পাতায় ছিল প্রাণ, ছিল গল্প, ছিল স্বপ্ন দেখার সাহস। কিন্তু আজকের প্রজন্ম যেন হারিয়ে যাচ্ছে অনলাইনের অদৃশ্য জগতে। মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে নতুন প্রজন্মের কল্পনা শক্তি, কমে যাচ্ছে বই পড়ে জ্ঞান অণ্বেষণ করে শিক্ষায় সমৃদ্ধশালী হবার প্রয়াস, বইয়ের গন্ধে ডুবে থাকার অভ্যাস। তবুও, হাল ছাড়েননি এই পাঠাগারের স্বপ্নবান মানুষগুলো। সেখানে আলাপচারিতায় পাঠাগারের এমনই একজন জ্ঞান পিপাসু অন্যতম সদস্য, বিশিষ্ট লেখক ও নিবেদিত পাঠক তথা মানুষ গড়ার কারিগর বিপুল স্যার আবেগভরা কণ্ঠে বললেন”সময় বদলেছে, মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু জ্ঞানের মূল উৎস কখনো বদলায় না। আজকের প্রজন্ম হয়তো বই থেকে দূরে সরে গেছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি-একদিন তারা আবার ফিরে আসবে। বইয়ের কাছে, জ্ঞানের কাছে, নিজের শিকড়ের কাছে।”
তার এই বিশ্বাস, এই আশা-ই যেন পাঠাগারটিকে এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে বলে মনে করেন সেখান শিক্ষানুরাগী বাসিন্দারা। হয়তো আজ পাঠক কম,কিন্তু স্বপ্ন কমে যায়নি। হয়তো চেয়ারগুলো খালি, কিন্তু আশা এখনো পূর্ণ। একদিন আবার এই পাঠাগার ভরে উঠবে নতুন প্রজন্মের পদচারণায়, বইয়ের পাতার শব্দে, আর জ্ঞানপিপাসু মনগুলোর উচ্ছ্বাসে। বিপুল স্যারের সাথে আলাপচারিতায় মনে হচ্ছিলো যেনো হারিয়ে যাচ্ছিলাম শৈশব-কৈশরের সকাল-বিকাল- সন্ধ্যার কোনও লেখাপড়ার সুমধুর সুরের কোন পাঠশিবিরে। তথ্য সংগ্রহকালে সেখানে উপস্থিত থাকা আরেক আলোকিত মানুষ, শিক্ষানুরাগী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র(আসক) এর কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান রকিব আল মাহমুদ বললেন, বিপুল স্যারের মতো আলোকিত মানুষগুলোর মধ্যে যারা এখনো বেঁচে আছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়, আনাচে-কানাচে আসুন তাদের আমরা স্যালুট জানাই, আসুন তাদের আমরা কদর করি। তাহলে বিদ্যা- শিক্ষা অর্জন করানোর মানুষগুলো বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে চিরকাল। বেঁচে থাকবে বই পড়ার স্বপ্ন।