
পাটগ্রাম প্রতিনিধি:
পাটগ্রাম পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য সোহেল রানার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার আন্তঃজেলা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের মনিরুল ইসলাম হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করায় তাকে এতদিন গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়।
তবে এ গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় সমর্থকদের দাবি, সোহেল রানা একজন “মজলুম জননেতা” এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। তাদের ভাষ্য, প্রবাসে থাকা অবস্থাতেও তিনি এলাকায় ব্যাপক সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন এবং বহু বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি; বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হয়নি।
জামায়াত ও শিবির সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে পাটগ্রামে একটি বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন ছাত্রশিবির সভাপতি মনিরুল ইসলাম। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে জামায়াত শিবিরের ৩জন নিহত ও অনেক আহত হন বলে দলটির দাবি।
তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গুলি চালানো, হামলা ও পরবর্তী নির্যাতনের মাধ্যমে ৩জন নেতাকর্মীর মৃত্যু ঘটে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর থেকে বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মামলা গ্রহণে অনীহা দেখানো হয় এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়।
সোহেল রানার গ্রেফতারের পর তার সমর্থকরা দ্রুত মুক্তি, মামলার প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হলে এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।