
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটির মোট ৩৩ জন সদস্যের মধ্যে ২৬ জনই তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। অভিযুক্ত সদস্য সচিবকে পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
গত ৭ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো ওই অভিযোগপত্রে আব্দুর রহিম রিপনের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর মো ফয়জুল করিম ময়ূনকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হলেও শুরুতে সদস্য সচিবের পদ শূন্য ছিল। পরবর্তীতে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে ২৯ ডিসেম্বর আব্দুর রহিম রিপনকে এই পদে বসানো হয়, যা জেলার সাধারণ নেতাকর্মীদের হতবাক করে। সেই সময় থেকেই কমিটির ১৯ জন সদস্য এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
বিক্ষুব্ধ সদস্যদের অভিযোগ, আব্দুর রহিম রিপন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। তার ভাই উত্তরা দক্ষিণখান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এছাড়া বর্তমানেও তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছেন এবং জেলার মিনিবাস টার্মিনাল দখলসহ চাঁদাবাজির মতো অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
আবেদনকারীরা আরও জানান, গত ৫ আগস্টের পর তিনি ব্যাপক হারে মামলা বাণিজ্য করেছেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে জামায়াতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এমতাবস্থায় জেলা বিএনপির রাজনীতিতে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় আব্দুর রহিম রিপনকে অবিলম্বে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছকেও প্রদান করা হয়েছে।