
মাদারীপুর শিবচর প্রতিনিধি :
মাদারীপুর শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আলেপুর গ্রামে সোহেল ব্যাপারি (৩৮) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা কে কেন্দ্র কোরে স্থানীয়রা তার পরিবার নিয়ে মানব বন্ধন করেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি)
সকালে বাড়ির পাশের একটি গাছে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় সোহেল ব্যাপারির লাশ দেখতে পান তার চাচাতো বোন মুসলিমা আক্তার। তিনি বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের
জানান।এলাকাবাসী খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মাদবর কে ঘটনাস্থানে নিয়ে আসেন এবং পুলিশকে অবহিত ফোন করেন। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের ভাই জুবায়ের ব্যাপারি জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার পর একটি ফোনকল পেয়ে সোহেল বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তিনি বাড়ি ফেরেনি। সকালে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি, পাশের জিরা ক্ষেতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনাস্থলের পাশের জিরা ক্ষেতের কিছু অংশ এলোমেলো দেখা গেছে বলেও জানান তারা।
নিহতের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৫) অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত হাসান মাদবর তার বাবাকে আগের দিন মারধর করেছিলেন। সে কারণে তার বাবা রাতে বাইরে যেতে ভয় পেতেন। বিশ্বস্ত কেউ ফোন করায় তিনি ঘর থেকে বের হন। পরে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হাসান মাদবর ও তার লোকজন সোহেলকে মারধর করেন এবং পরে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। ঘটনার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলায় নাম না জড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মাদবর বলেন,ঘটনার বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানতেন না এটি যদি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।
এলাকাবাসীরা জানান,সোহেল ব্যাপারি ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সুদের টাকা নেওয়া নিয়ে বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন তারা। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবার নির্দিষ্ট কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।এ বিষয়ে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এখনো।