
চুুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন দর্শনা পৌরসভা এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের রিপন (৪৫) নামে এক বিএনপির কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী খাইরুল(৩৫), হাশেম আলী(৫৬), আব্দুল কুদ্দুস (৩০) ও শরিফুল ইসলাম (২৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (২৫ শে ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পুড়া পাড়া গ্রামে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ,দর্শনা থানাধীন দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলামের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এর সহযোগিতায় পুলিশের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিএনপি কর্মী রিপনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা মামলা এজাহারনামী আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খায়রুল ইসলাম, হাসেম আলী, আব্দুল কুদ্দুস ও শফিকুল ইসলাম কে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাদেরকে দর্শনা থানায় হস্তান্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং বিএনপি কর্মী রিপন নিজ বাড়ি থেকে ইফতার শেষ করে পার্শ্ববর্তী ঈশ্বরচন্দ্রপুর জামে মসজিদে নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সময় আগে থেকে ও্য পেতে থাকা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী খায়রুল ও হাশেম সহ ১৫ -২০ জন তার উপরে হামলা করে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলো পাহাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তার অবস্থা অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাসেম ও খায়রুল কামড়ি গং এবং বিএনপি কর্মী রিপনের মধ্যে পূর্বে বাগবিতণ্ডা হয়। এ বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৯টার দিকে দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক নারুল ইসলাম মাস্টারের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তারা দর্শনা থানা ঘেরাও করে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন,রিপনের ওপর হামলা পরিকল্পিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই ইফতার শেষে মসজিদে যাওয়ার পথে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি করছি।
ওই রাতেই আহত রিপনের বাবা আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে খাইরুল, হাশেম, কুদ্দুস ও শফিকুল সহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০-২৫ জনের নামে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট আসামিদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে ৩ দিন পর আজ বুধবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সহযোগিতায় পুলিশের একটি টিম ৪ জনকে গ্রেফতার করে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম তৎপর রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানায়।