
ফায়েজুল কবীর,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর পল্লীবিদ্যুৎ সংলগ্ন রেজাউল হাওলাদারের বাড়ীতে মঙ্গলবার (১৭/২/’২৬ ইং) ভোর রাতে প্রতিপক্ষরা ককটেল হামলা চালিয়েছে। এসময় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দে রেজাউল হাওলাদারের স্ত্রী-সন্তান সহ আশে-পাশের মানুষের ঘুম ভেঙ্গে এক আতঙ্কিত পরিবেশের তৈরী হয়। তাদের আর্ত চিৎকারে প্রতিবেশীরা সজাগ হয়ে তাদের সাহায্যে এগিয়ে এলে সেখান থেকে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় । এ ব্যাপারে রেজাউল হাওলাদারের পুত্র রিয়াদ হাওলাদার বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন গিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাক্ষাতকারে তারা জানান, একই এলাকার সামসু সর্দার ও তার দলবলের লোকেরা পূর্ব শত্রতার জেরে এ হামলা চালিয়েছে। তারা আরো বলেন, বিগত ৯ মাস পূর্বে একই এলাকার লালচান হাওলাদারের পুত্র ইলিয়াস হাওলাদার হত্যার শিকার হন এবং সামসু সর্দার সহ তাদের দলবলের লোকজন ঐ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, কিছুদিন পরে যৌথবাহিনীর হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ গ্রেফতার হয়ে সামসু সর্দার ও তাদের লোকজন জেল হাজতে যায়। কয়েকমাস জেলহাজত খেটে সামসু সর্দার পরে জামিনে মুক্ত হয়। ইলিয়াস হাওলাদার হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় সামসু সর্দার ও হাসিব হাওলাদার তার লোকজন নিয়ে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। যে কোনো সময় তারা আরো বড় ধরণের ক্ষয়- ক্ষতির আশঙ্কার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীণতার কথা বলেছেন । ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিতে সামসু সর্দারকে মোবাইল ফোনে সংযোগের চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, তবে হাসিব হাওলাদারকে মোবাইল ফোনে পাওয়া গেলে তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার তিনি কিছুই জানেন না, এমনকি তিনি এলাকায়ও ছিলেন না।
এ ব্যাপারে বাদী রিয়াদ হাওলাদারে মা ছালমা বেগম (৪৫) বলেন, আমি আমার স্বামী- সন্তান নিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি, যে কোনো সময় প্রতিপক্ষরা ইলিয়াস হাওলাদার হত্যাকান্ডের মতো আমার স্বামী-সন্তানকে খুন-জখম করতে পারে। মাদারীপুরের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তারা এসব সন্ত্রাসী-বেআইনি কর্মকান্ডের দ্রুত বিচার, গ্রেফতার সহ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন।