
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটকীয় পরিবর্তন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া নীতির প্রভাবে কিউবার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর থেকেই কিউবায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পানিসংকট ঘিরে আশঙ্কা বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে ভর্তুকি মূল্যে জ্বালানি তেল পেয়ে আসছিল কিউবা। বিনিময়ে কিউবা দেশটিতে হাজার হাজার চিকিৎসক ও শিক্ষক পাঠাত। তবে গত ১১ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট ঘোষণা দেন—ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে তেল বা অর্থ সহায়তা দিতে পারবে না। এর ফলে কিউবার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে।
বর্তমানে কিউবা নিজেদের চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারছে না। জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে দিনে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাভানার বাসিন্দাদের মধ্যে এরই মধ্যে সংকটের চাপ স্পষ্ট। ২৮ বছর বয়সী ওয়েব ডিজাইনার এলেনা গার্সিয়া জানান, তাদের এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ। তার মতে, অনিশ্চয়তা এতটাই বেড়েছে যে অনেক মানুষ দেশ ছাড়ার কথা ভাবছেন।
হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমান্ডা টেরেরো সতর্ক করে বলেন, “মানুষ কোনো স্বস্তি পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, খাবারের সংকট—এ অবস্থায় অর্থনৈতিক অচলাবস্থা যেকোনো সময় বড় ধরনের গণবিক্ষোভে রূপ নিতে পারে।”
মার্কিন প্রশাসন কিউবার ওপর চাপ আরও জোরদার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুরুতে কিউবার সরকার পতনের ইঙ্গিত দিলেও সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি ‘স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখার কথা বলছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কিউবায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে ফ্লোরিডা উপকূলে শরণার্থীদের ঢল নামতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার অর্থনীতি ধসে পড়ার একেবারে কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। তিনি কিউবাকে “দেরি হওয়ার আগেই সমঝোতায় আসার” আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে কিউবান সরকার এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে নারাজ। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ “রক্তের শেষ বিন্দু পর্যন্ত” আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। যদিও সাধারণ জনগণের মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট—কেউ বিদেশি হস্তক্ষেপে পরিবর্তন চান, আবার কেউ জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষেই অনড়।
ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের সহায়তা হারিয়ে, একদিকে তীব্র জ্বালানি সংকট এবং অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে পড়ে কিউবা এখন ইতিহাসের অন্যতম গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। এই দ্বিমুখী চাপের মধ্যে দেশটি কতদিন টিকে থাকতে পারবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের বড় প্রশ্ন। সূত্র: আল জাজিরা