1. news@dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ : দৈনিক আলোকিত নিউজ
  2. info@www.dainikalokitonews.com : দৈনিক আলোকিত নিউজ :
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গঠনে প্রশিক্ষক তৈরির উদ্যোগ,বগুড়ায় ডিএনসির প্রশিক্ষণ কর্মশালা সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল প্রথমবার বিশ্বকাপে আসা কেপ ভার্দে মাদকাসক্তি মুক্ত শিক্ষাঙ্গন ও সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিহার্য,কর্মশালায় বক্তারা মিঠাপুকুরে চালককে কুপিয়ে অটো মিশুক ছিনতাইয়ের চেষ্টা,নারী সদস্য হাতেনাতে আটক ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬ জন নিহত ​মাদারীপুরে শতাধিক ককটেলের বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত-১০,বাড়ীঘর ভাঙ্চুর-লুটপাট ​ শেষ মুহূর্তের গোলে ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লি প্রবেশে বাধা, যা ঘটলো ভারতের বিমানবন্দরে বগুড়ায় মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে রাজশাহীতে স্টার্টআপ,বিজ্ঞান ও ইনোভেশন প্রতিযোগিতা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার আজই চুক্তি সইয়ের ঘোষণা ট্রাম্পের, সংশয়ে ইরান জাজিরায় নিখোঁজ হওয়ার ৭দিন পর সাগরের মরাদেহ উদ্ধার আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ শেষে ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিল-মরক্কোর সুলতানগঞ্জ বন্দর চালুর সুপারিশ করবে বিআইডব্লিউটি শিবগঞ্জে গাঁজা ও কুপিজেসিক ইনজেকশনসহ তিনজন গ্রেপ্তার সিংগাইরে ছাত্তার ফাউন্ডেশনের ১৫ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ ভাঙ্গুড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ জন মাদক সেবিকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ: গোদাগাড়ী পৌরসভা বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদযাপিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন ডিসি আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী উলিপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ডিমলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু বগুড়া সদরে টাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার কলমাকান্দায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে নূরুল আমিন পেলেন নতুন ঘর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র আজ কক্সবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী,রয়ছে যেসব কর্মসূচি জনগনের জন‍্য বাজেট,সুফল পৌঁছাবে প্রতিটি ঘরে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এমপি খোকন তালুকদার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সম্মানসূচক ‘সিন্ডিকেট সদস্য’ নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ সংবর্ধনা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের তৎপরতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিখোঁজ কিশোরী উদ্ধার

দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে -রানার-ডাক 

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে
ফিরোজ মাহমুদ,রংপুরঃ
আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে, যখন দেশে টেলিফোন, টেলিগ্রাম বা ডাকবাহক ট্রেনের অস্তিত্ব ছিল না -তখনই বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিল -রানার-বা ডাক।ইতিহাস বলে-রানার পেশার সূচনা হয়েছিল ১৭শ শতকের দিকে মোগল আমলে। তবে এটি সংগঠিত রূপে চালু হয় ১৭৬৪ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডাক বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর। প্রথমে এই ব্যবস্থা চালু হয় কলকাতা–ঢাকা–মুর্শিদাবাদ–চট্টগ্রাম রুটে। বাংলায় আসে ইংরেজরা যখন ভারতে তাদের প্রশাসনিক যোগাযোগ দ্রুত করতে চাইল, তখন তারা ইউরোপীয় ডাক-সিস্টেমের আদলে পায়ে হেঁটে চলা -রানার-দের নিযুক্ত করে। এই পেশাটি তখন থেকেই বাংলায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রাজশাহী অঞ্চলে রানারদের পদচারণা ছিল সাধারণ দৃশ্য। একজন রানার সাধারণত কাঁধে ডাকের থলে, হাতে একটি ঘণ্টা বা বর্শা নিয়ে পায়ে হেঁটে কয়েক মাইল পথ অতিক্রম করতো।
ঘণ্টার শব্দে মানুষ বুঝতো -ডাক আসছে প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর “রানার পোস্ট” বা “ডাক বাংলো” থাকতো, যেখানে একজন রানার এসে চিঠি হস্তান্তর করতো পরবর্তী রানারের হাতে। এভাবেই এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খবর পৌঁছে যেত দিনে বা রাতে, বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে। রানারদের গুরুত্ব ঢাকায় নবাব, জমিদার ও সরকারি প্রশাসনে যোগাযোগ রক্ষার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই রানাররা।তারা ছিলেন বিশ্বাসের প্রতীক, কারণ তাদের ওপরই নির্ভর করতো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র, যুদ্ধবাণী বা বাণিজ্যিক বার্তা।
 রানারদের অন্য নামও রয়েছে তাদের অনেক জায়গায় বলা হতো ডাক-বাহক,ডাক-পিয়ন, বা রানার-বালক।গ্রামীণ বাংলায় -রানার এসেছে-এই ডাক মানেই ছিল এক নতুন খবর, কখনো আনন্দ, কখনো বেদনার সংবাদ। সময়ের পরিবর্তনে রেললাইন, টেলিগ্রাফ, তারপর আধুনিক ডাক ও ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে এই পেশাটি আজ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।তবুও বাংলাদেশের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো কয়েকজন গ্রামীণ ডাকবাহক সেই পুরোনো ঐতিহ্যের ধারক।রানার ছিল শুধু একটি পেশা নয় — এটি ছিল বিশ্বাস, দায়িত্ব ও দেশের প্রাণস্পন্দনের প্রতীক।
তাদের ঘাম, ক্লান্তি আর দৃঢ় পদক্ষেপের ওপরই দাঁড়িয়েছিল বাংলার যোগাযোগের প্রাচীন ইতিহাস।বাংলাদেশের রানার  এক সময়ের অবিচল পথিক, যার ঘাম, মাটি, ক্লান্তি আর দায়িত্ববোধ মিলে গড়ে উঠেছিল যোগাযোগের প্রথম অধ্যায়। তাদের কার্যক্রম শুধু ডাক পৌঁছানো নয়, ছিল মানুষের মনের খবর পৌঁছে দেওয়া -আনন্দের চিঠি, যুদ্ধের সংবাদ, কিংবা প্রিয়জনের কান্নামিশ্রিত লেখা।ভোরের আলো ফোটার আগেই রানার বেরিয়ে পড়ত।কাঁধে ডাকের থলে, হাতে ঘণ্টা বা হ্যারিকেন, আর বর্শা – যেন সাহস ও দায়িত্বের প্রতীক।
বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে, কাঁদায় পা ডুবিয়ে – তারা ছুটত মাইলের পর মাইল।প্রতিটি পথের নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিল “ডাক বাংলো বা রানার পোস্ট।একজন রানার সেখানে এসে তার থলে খুলে দিত,পরবর্তী রানারের হাতে তুলে দিত বার্তাগুলো-এভাবেই গন্তব্যে পৌঁছাত প্রশাসনের চিঠি, ভালোবাসার খবর, বা দুঃসংবাদ।
মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক রানার এসেছে এই ডাক শুনলেই গ্রাম জেগে উঠত।কেউ খুশিতে দৌড়ে আসত, কেউ অজান্তে চোখের জল ফেলত।রানার ছিল মানুষের কাছে খবরের দূত,
একজন অচেনা কিন্তু সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ।
পথের লড়াই ও দায়িত্ব বাঘ, সাপ, ডাকাত — কিছুই তাদের থামাতে পারত না।
তারা জানত, এই চিঠির মধ্যে কারও জীবনের আশা লুকানো। তাই পা ক্লান্ত হলেও তারা থামত না কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল-বার্তা পৌঁছাতে হবেই।একটি আবেগ, এক ঐতিহ্য
আজ সেই রানার নেই, কিন্তু তাদের গল্প রয়ে গেছে বাংলার মাটিতে। গ্রামীণ পথের ধুলোয়, পুরনো ডাক বাংলোতে,এখনও যেন ভেসে আসে সেই ঘণ্টার আওয়াজ ডাক আসছে!”
 চিঠির অপেক্ষায় এক গ্রাম রানারের পদধ্বনি যেন হৃদয়ের স্পন্দন বাংলার কোনো এক শান্ত গ্রাম দিগন্তে সূর্য ডুবছে, গরু ফিরছে মাঠ থেকে,আর গ্রামের মাটির পথ ধরে দূর থেকে ভেসে আসছে ঘণ্টার শব্দ -ডাক আসছে সেই শব্দে গ্রামের মানুষ থমকে দাঁড়ায়।
কেউ দৌড়ে আসে উঠানে, কেউ দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে -রানার আসছে। প্রেমিক-প্রেমিকার অপেক্ষা তখন ফোন ছিল না, চ্যাট ছিল না,একটা চিঠিই ছিল ভালোবাসার একমাত্র সেতু।প্রেমিকা অপেক্ষা করতো।আজ হয়তো রানার আসবে, হয়তো তার খবর নিয়ে আসবে।রানার হাতে সেই কাঁপা কাগজের টুকরোটা পেতেই হাসি মিশে যেত চোখের জলে। চিঠিটা খুলে পড়ার আগে বুক ধকধক করতো,আর চিঠি শেষ হতেই ঠোঁটে চাপা হাসি।গ্রামের সাধারণ মানুষের খবরের আশায় কারও ছেলেপুলে শহরে কাজ করে,
কারও ভাই সৈন্যবাহিনীতে তাদের খবর আসে রানারের হাতে। রানারের কণ্ঠে শোনা যেত-এই নিন, ঢাকার থেকে চিঠি এসেছে।
এই ছোট্ট বাক্যটাই ছিল কত ঘরের আনন্দ, কত চোখের কান্না।ব্যবসায়ীদের ভরসা ছিল রানার বণিকেরা তাদের মালামাল পাঠাত দূর শহরে। বিক্রির খবর, দামের হিসাব, বাণিজ্যের বার্তা সবই পৌঁছাত রানারের মাধ্যমে।
রানার দৌড়ে যেত নদীর ঘাট থেকে হাটে,
হাট থেকে আবার পরের গ্রামের মহাজনের কাছে।তাদের দ্রুততা ও বিশ্বাসের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল বাংলার ব্যবসার পুরোনো চাকা। রানার হয়তো কোনো খবর নিজে পড়তে পারতো না,কিন্তু জানতো, এই চিঠির ভেতরে আছে কারও অপেক্ষা, কারও অশ্রু, কারও আনন্দ। তাই সে থামতো না-ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক রাত হোক।কারণ সে জানতো,
“আমি না পৌঁছালে কারও সুখ দেরি হবে
আজ সেই রানার নেই,তবুও বাংলার গ্রামীণ পথের ধুলোয় যেন এখনো ভেসে আসে সেই ঘণ্টার ধ্বনি,যেন কেউ বলছে “ডাক আসছে…”রানার: পরিশ্রম, ত্যাগ আর দায়িত্বের অনন্য প্রতীক বৃষ্টিভেজা কাদা-পথ,অন্ধকার রাত, কোথাও বন্যা, কোথাও পাহাড়ি জনপথ তবুও থামতো না সে, বাংলার সেই অবিচল পথিক, রানার।কাজের প্রতি অবিচল বিশ্বাস
রানারের জীবন মানেই ছিল ঝুঁকির জীবন।
দিনে রোদে পুড়ে, রাতে বন্য জনপথে সাপ-গোখরোর ভয়,তবুও সে পা থামাত না। তার মনে থাকত একটাই কথা এই চিঠি শুধু চিঠি নয় হাসি কান্না সুখ দুঃখের খোরাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত-২০২৬,আমাদের প্রকাশিত সংবাদ,কলাম,তথ্য,ছবি,কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট