
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে লালমনিরহাটে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। কৃষকরা দিশেহারা।
লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আকস্মিক শিলা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ২৭ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া মাত্র ১০ মিনিটের এই তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, উপড়ে পড়েছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। এতে কৃষকের মাঠের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের স্বপ্ন এখন মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম।
মধ্যরাতের এই ঝড়ের সময় জেলা সদর, আদিতমারী, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিলাবৃষ্টির তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই অনেকের টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে । অনেক স্থানে বড় বড় গাছ ভেঙে বসতঘরের ওপর পড়ায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাসিন্দারা। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি।
হঠাৎ শুরু হওয়া এই দুর্যোগে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে। আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, রাতে যে পরিমাণ বৃষ্টি আর বড় বড় পাথর (শিলা) পড়েছে, তাতে ভয়ে ঘরে থাকতে পারছিলাম না। বাচ্চাদের নিয়ে সারারাত বসে কাটিয়েছি। আজকেও আকাশ মেঘলা, গতকালের মতো শিলাবৃষ্টি হলে ঘরটাই ভেঙে যাবে। দিনে এনে দিনে খাই, আমরা গরিব মানুষ। ঘরবাড়ি ভেঙে গেলে নতুন করে কীভাবে তৈরি করব?
শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ উঠতি ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন দিশেহারা। আদিতমারী উপজেলার কৃষক মাহবুবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ৪ দোন (স্থানীয় জমির পরিমাপ) জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। রাতের শিলাবৃষ্টি ও বাতাসে ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ভুট্টা গাছ হেলে পড়েছে। শুকাতে দেওয়া তামাক পাতাগুলো ফুটো হয়ে ভিজে গেছে। এবার আর দাম পাবো না। ভেবেছিলাম তামাক বিক্রি করে ঘরের ফুটো টিনগুলো বদলাবো। কিন্তু এখন তো সব নষ্ট হয়ে গেল। গরিব মানুষ, এখন চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন শুরু হয়েছে। লালমনিরহাট কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান সার্বিক বিষয়ে বলেন,গতকাল রাতের শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ভোটমারী ইউনিয়নের ২টি এবং তুষভাণ্ডার ইউনিয়নের ৩টি এলাকা পরিদর্শন করেছি। এরপর কাকিনা ইউনিয়নে যাব। ঈদের একদিন আগে হওয়া বৃষ্টির চেয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে এবার ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি। ভোটমারী এলাকায় প্রায় ১০০টি টিনের ঘরের যে অবস্থা দেখেছি। তা বসবাসের অনুপযোগী। পাশাপাশি ভুট্টারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। তালিকা সম্পূর্ণ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হবে। এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের শতাধিক বসতবাড়ি লন্ডভন্ড হয়েছে। অসংখ্য পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। সরকারি ভাবে তাৎক্ষণিক কোন সাহায্য সহযোগীতা পাওয়া যায় নি।
তবে ক্ষতি গ্রস্হদের তালিকা করে। আর্থিক সহযোগিতার তথ্য জানান, জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা।