
রাজশাহী ব্যুরো:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক পল্লিতে ধীরে ধীরে বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা। রুচিশীল ও শৌখিন ক্রেতাদের উপস্থিতিতে জমে উঠতে শুরু করেছে সিল্ক শোরুমগুলো। অন্যান্য বিপণিবিতানের মতো তীব্র ভিড় বা ঠেলাঠেলি না থাকলেও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পছন্দের পোশাক কিনছেন ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরাও ঈদের চাহিদা মাথায় রেখে নিয়েছেন বাড়তি প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর বাজারে অন্তত ৬০ কোটি টাকার সিল্ক পণ্য বিক্রি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নগরীর বিভিন্ন সিল্ক শোরুম ঘুরে দেখা যায়, শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের সিল্ক পণ্যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। রমজান শুরুর পর থেকেই ধীরে ধীরে ক্রেতা সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কেনাকাটার ব্যস্ততা।
ক্রেতাদের মতে, মান, নকশা ও ঐতিহ্যের কারণে রাজশাহীর সিল্কের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের আস্থা রয়েছে। প্রতি ঈদেই অনেকেই এখান থেকে পরিবারের জন্য পোশাক কিনে থাকেন।
ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, রাজশাহীর সিল্কের কাপড়ের মান যেমন ভালো, তেমনি এর ডিজাইনেও রয়েছে স্বতন্ত্র ঐতিহ্যের ছাপ। বিশেষ করে সিল্কের শাড়ির প্রতি তার আলাদা আগ্রহ রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও কয়েকটি শাড়ি কিনেছেন তিনি।
আরেক ক্রেতা মো. রাকিব হাসান জানান, অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় সিল্ক শোরুমগুলোতে ভিড় কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। কাপড়ের মান ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি হলেও তাতে আপত্তি নেই। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের জন্য পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস এবং শিশুদের পোশাক কিনেছেন তিনি।
ব্যাংক কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, রাজশাহীর সিল্কের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও মানের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। কাপড়ের গুণগত মান ও আরামদায়ক ব্যবহারযোগ্যতার কারণে ঈদে আত্মীয়স্বজনদের উপহার দেওয়ার জন্যও সিল্ক পণ্য কিনেছেন।
এদিকে ঈদের বাড়তি চাহিদা পূরণে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের রুচি ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নকশার মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহী সিল্ক ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী খুরশিদা খুশি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে অনেক আগেই উৎপাদন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন নকশার পণ্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ করে এবারে মোসলিন কাপড়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের শোরুমে মোসলিন শাড়ির দাম ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। শিশুদের পোশাক ৫০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার এবং থ্রি-পিস ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ঊষা সিল্কের মহাব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, সিল্কের ব্যবসা সারা বছর চললেও ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। গরমের মৌসুম বিবেচনায় রেখে এবার মোসলিন কাপড়ে বেশি কাজ করা হয়েছে। শাড়ি, পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিসের বিক্রি বেশি হচ্ছে। দামও এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ক্রেতারা সিল্ক পণ্য কিনতে পারেন।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, নির্বাচন পরবর্তী স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবারের ঈদ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সপুরা সিল্কের পরিচালক সাজ্জাদ আলী সুমন বলেন, এবারের ঈদকে সামনে রেখে প্রস্তুতিও ছিল ভিন্নধর্মী। নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় মানুষের কেনাকাটার আগ্রহও বেড়েছে। শীতের শেষ ও গরমের শুরু হওয়ায় সেই অনুযায়ী পোশাক প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গত পাঁচ বছরে সিল্ক পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে তাদের শোরুমে শাড়ি ৩ হাজার ২০০ থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত, থ্রি-পিস ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার এবং পাঞ্জাবি ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
ঈদকে ঘিরে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকায় রাজশাহীর সিল্ক পল্লিতে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।