
ষ্টাফ রিপোর্টঃ
দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রাণনাথপুর মৌজায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কৌশলে দরিদ্রদের জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) দুপুরে দিনাজপুর কাচারী চত্বর সংলগ্ন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রাণনাথপুর মৌজার বিতর্কিত জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। সোমবার দুপুরে একটি কুচক্রী মহল ওই জমিটি গোপনে রেজিস্ট্রেশন করার পাঁয়তারা করলে খবর পেয়ে প্রকৃত ভোগদখলকারীরা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ভুক্তভোগী পক্ষের নারীসহ প্রায় সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, দিনাজপুর মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা মোছাঃ সুজরভি (সুজন) ও অন্যান্যরা দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৩৯ অর্ডার ১/২ রুল ও ১৫১ ধারা মোতাবেক মোঃ মাহবুব আলী (লিটন) গংদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন দাখিল করেন।
বিবাদীরা বিতর্কিত জমিটি কোনো ডেভেলপার বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করায় আদালত সোমবার প্রাথমিক শুনানি শেষে কেন স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ০৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা দিনাজপুর বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত। একইসাথে জমিটি যেন হস্তান্তর না হয়, সেজন্য জেলা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগও দাখিল করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে দিনাজপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, উক্ত জমি রেজিস্ট্রির জন্য বর্তমানে কোনো নথি আমার কাছে উপস্থাপিত হয়নি। নিয়মবহির্ভূতভাবে জমি রেজিস্ট্রার করার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জমির তফসিল: প্রাণনাথপুর (জে.এল নং-৬৩), কোতয়ালী, দিনাজপুর। সি.এস খতিয়ান নং: ৬৬৯, দাগ নং: ৬৬২৩। পরিমাণ: ২২.০০ একর।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘকাল ধরে চলা মামলার রায়ের পরেও দরিদ্র মানুষের জমি দখল ও বিক্রির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।