
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা নানা জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নারী নেত্রীদের মধ্যে সরাইল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সন্তান শামীমা ইস্কান্দার অন্যতম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি চাকরি হারান বলেও জানা গেছে। নাসিরনগরের সূর্যের হাসি ক্লিনিকে প্যারামেডিকেল ডাক্তার হিসেবে কর্মরত থাকলেও বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে আওয়ামী সরকারের সময়ে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়। এমনকি নির্যাতনের মুখে নিজ বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানান।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক) আসনে প্রত্যাশিত ফল না আসায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তাদের দাবি, সংরক্ষিত নারী আসনে শামীমা ইস্কান্দারকে মনোনয়ন দিলে এলাকায় দলীয় কর্মীদের জন্য কথা বলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।
এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলেছেন, সারা বাংলাদেশে ভূমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলেও সরাইল আশুগঞ্জ বিজয়নগরের আংশিক এলাকার মানুষের উন্নয়ন তো দূরের কথা দুঃখ বলার জায়গা নেই।
এলাকার যোগাযোগ ও সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক এলাকার অনেক সড়কই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। তাদের দাবি, প্রত্যাশা দলীয় জনপ্রতিনিধি না থাকায় নানা উন্নয়ন প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত গতি নাও আসতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, সরকার ক্ষমতায় থাকলেও কার্যকর প্রতিনিধিত্বের অভাবে তারা হতাশায় ভুগছেন। এ অবস্থায় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন—জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে শামীমা ইস্কান্দারকে নির্বাচিত করা হলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।