
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
সূত্রগুলোর দাবি, সামরিক বাহিনী চাইলে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) থেকেই অভিযানের প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখতে পারবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউস একদিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি, অন্যদিকে সংযম দেখানোর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব—দুই দিকই বিবেচনায় রাখছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন বাহিনী পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন হবে। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় কিছু সামরিক সদস্যকে অস্থায়ীভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। তবে এমন স্থানান্তর সামরিক অভিযানের আগে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ বলেই উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রহাম লিংকন ইতোমধ্যে ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করছে। আরেকটি রণতরী ইউএসএস গ্র্যান্ড আর.ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে; সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এটি পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে ছিল।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে “অনেক কারণ” থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানই প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে হবে কি না—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন রণতরীকে লক্ষ্য করে কটাক্ষপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মধ্যস্থতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। মার্কিন পক্ষ বলছে, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যদিও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত বছরের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে ওয়াশিংটনের দাবি। এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাড়ায়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্যমতে, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা অস্ত্র তৈরির মাত্রার কাছাকাছি।