
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ভয়াবহ শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। দেশটির নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষারপাত ও বরফের কারণে বাতিল করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট। এছাড়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছেন লাখো মানুষ এবং অন্তত একডজন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকো থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১৪ কোটি মানুষ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণ রকি পর্বতমালা থেকে শুরু করে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী তুষারপাত, শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টি হতে পারে।
সংস্থাটি কয়েক দিন ধরে তীব্র শীত অব্যাহত থাকারও সতর্কতা দিয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন স্যান্টোরেলি বলেন, ‘তুষার আর বরফ খুব ধীরে গলবে এবং দ্রুত সরে যাবে না। এতে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কাজ ব্যাহত হবে’।
এমন অবস্থায় শনিবার পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তত এক ডজন অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন এবং আরও বেশ কিছূ অঙ্গরাজ্যে এমন ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম জানান, ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ত্রাণসামগ্রী, কর্মী এবং উদ্ধার দল আগে থেকেই মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে অনুরোধ করছি, বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নিন— সম্ভব হলে ঘরে থাকুন’।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি মেরামতে কাজ শুরু হলেও পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যে বাসিন্দাদের জন্য শেষ মুহূর্তে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল শনিবার বলেন, ‘আমরা এমন এক ঝড়ের মুখোমুখি হচ্ছি, যা বহু বছর দেখা যায়নি’। তিনি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং মহাসড়কে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার নির্ধারণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে ঘরের ভেতর থাকাই সবচেয়ে ভালো’।