বিচারহীনতার অন্ধকার ভেদ করে গণভোটের আলো—নতুন বাংলাদেশের আহ্বান- ডা. শফিকুর রহমান
প্রকাশিত:
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬
১৯
বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
ন্যায়বিচার, ধর্মীয় সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে গড়া রাষ্ট্র—এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা উচ্চারণ করলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যাবে না; ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত—সবার জন্য বিচার হবে সমান।”
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল আড়াইটায় দিনাজপুর গড়ে শহীদ বড় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দশদলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশের মাটিতে আর যেন ধর্মে ধর্মে সংঘাত না থাকে—বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং সহাবস্থানের সংস্কৃতিই হোক বাংলাদেশের পরিচয়। তিনি বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের টাকা লুট করে বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ গড়ে তোলার সংস্কৃতি রাষ্ট্র ও জাতির জন্য গভীর অভিশাপ। যারা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার আমির অধ্যক্ষ মো. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন দশদলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন—
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মুজিবুর রহমান, শহর জামায়াতের আমির মাওলানা সিরাজুস সালেহীন, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি কামরুল হাসান রাসেল, এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক একরামুল হক আবিরসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষাংশে গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আর যেন কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে না আসে, কেউ যেন বারবার বাংলার মসনদকে কলঙ্কিত করতে না পারে—এই দায়বদ্ধতা থেকেই গণভোটের প্রয়োজন।”তিনি বলেন, আগামী দিনে বাঙালি ও বাংলাদেশি জাতির ভাগ্য কোন পথে এগোবে, তার দিকনির্দেশনা দেবে এই গণভোট। তাই দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্র রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।