
মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া (রংপুর)প্রতিনিধিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুরে এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। তাকে বাড়ির উঠানে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক এনজিও কর্মীর পরিবারের বিরুদ্ধে। এসময় ওই গৃহবধূকে বাঁচাতে গিয়ে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানিসহ একই পরিবারের চারজনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আহতরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের ঘেচুলিয়া গ্রামে আদ-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাঠকর্মী লিলি বেগমের বাড়িতে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ) দুপুরে ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগমের স্বামী মহাসীন আলী বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,লতিবপুর ইউনিয়নের ঘেচুলিয়া গ্রামের মহাসীন আলীর স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৫) আদ-দ্বীন এনজিওর একজন নিয়মিত গ্রাহক। গত ১৪ জানুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ওই এনজিওর মাঠকর্মী লিলি বেগমের বাড়িতে কিস্তির টাকা জমা দিতে যান। টাকা জমা নেওয়ার পরিবর্তে লিলি বেগম পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাবেয়া বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। রাবেয়া এর প্রতিবাদ করলে লিলি বেগম ও তার সহযোগীরা তাকে বাড়ির উঠানে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালান। রাবেয়াকে নির্যাতনের খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে লিলি বেগমের নির্দেশে একদল সশস্ত্র হামলাকারী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, লিলি বেগমের সহযোগী লাইজু মিয়া লোহার রড দিয়ে রাবেয়ার স্বামী মহাসীন আলীর মাথায় ও বুকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন এবং গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালান।এসময় বৃদ্ধ শ্বশুর আকমল হোসেন (৭০) পুত্রবধূকে বাঁচাতে এলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। মহাসীন আলীর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মদিনা খাতুন এগিয়ে এলে নাজমুল হোসেন নামে এক যুবক তার শ্লীলতাহানি ঘটান। লিলি বেগম ও সাহেবা বেগম মিলে কিশোরীটির গলা চেপে ধরলে সে মুমূর্ষু অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয়রা জানান,একজন এনজিও কর্মীর আচরণ হবে নম্র ও সহযোগিতামূলক, কিন্তু লিলি বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যেভাবে একজন গ্রাহক ও তাঁর পরিবারকে রক্তাক্ত করেছেন, তা নজিরবিহীন। মহাসীন আলী বলেন, আমর স্ত্রী কিস্তি দিতে গিয়েছিল, মার খেতে নয়। আমরা তাকে বাচাতে গেলে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছি।আমার স্কুল পড়ুয়া মেয়েটার সর্বনাশ করতে চেয়েছিল নাজমুল। এমনকি লিলি বেগম এনজিওর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই। অভিযুক্ত লিলি বেগমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আদ-দ্বীন ওয়েল ফেয়ার এনজিওর শাখা ম্যানেজার রশিদুল ইসলাম বলেন,আমরা কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান,এ বিষয়টি একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।