
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়া থেকে গাইবান্ধাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন কলেজপাড়া এলাকার মৃত নূর আহমদের ছেলে টেকনাফ পৌরসভা,কক্সবাজার জেলার আব্দুল করিম (৩৯)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি মাদকের চালান পাচারের খবর পেয়ে ডিএনসির একটি দল বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অরিন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলেও সেটি না থেমে গাইবান্ধার দিকে চলে যায়।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রেইডিং টিম বাসটিকে অনুসরণ করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আটক করে। সেখানে বাসের এ-৪ নম্বর আসনে বসা টিকিটবিহীন যাত্রী আব্দুল করিমের দেহ ও তার বহন করা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে ২ হাজার পিস অ্যাম্ফিটামিনযুক্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো ১০টি প্যাকেটে সংরক্ষিত ছিল। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০টি করে মোট ২ হাজার ইয়াবা পাওয়া যায়। এছাড়া মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে একটি বড় ধরনের ইয়াবার চালান জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডিএনসি কাজ করে যাচ্ছে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
ডিএনসি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Leave a Reply