
সরাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করলেন চার নারী। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে আলোচনায় এসেছেন চার ভিন্ন পটভূমির নারী—যাদের জীবনের গল্প, সংগ্রাম আর অবস্থান একে অপরের থেকে আলাদা হলেও লক্ষ্য একটাই—জনসেবা।
এই তালিকায় আছেন প্রকৌশলী, গৃহিণী, অধিকারকর্মী এবং ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা সংগঠক। ফলে একে শুধু মনোনয়ন নয়, বরং সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিত্ব হিসেবেও দেখছেন অনেকে।
ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ—একাডেমিক জগতের পরিচিত মুখ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে বর্তমানে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক। প্রযুক্তি ও শিক্ষার জগৎ থেকে সরাসরি রাজনীতিতে আসা তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হলেও সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, রোকেয়া বেগমের পরিচয় ভিন্ন এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ
শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে মানুষের সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে তিনি এখন বৃহত্তর সমাজের কণ্ঠস্বর হওয়ার পথে।
সানজিদা ইসলাম তুলি—নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় এই নেত্রী ইতোমধ্যে জাতীয় রাজনীতির মাঠেও পা রেখেছেন। ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচন করে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন।
আর নাদিয়া পাঠান পাপন—রাজপথের পরিচিত মুখ। ছাত্রদল থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
চার নারীর এই মনোনয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শুধু রাজনৈতিক সমীকরণই বদলাচ্ছে না, বরং নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের বিষয়টিকেও নতুনভাবে সামনে আনছে। ভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এই প্রতিনিধিরা সংসদে গেলে নীতি নির্ধারণে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যোগ হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রত্যাশা, সমালোচনা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু সামলে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে তাদের।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই চার নারী কেবল মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী নন; তারা সময়ের এক নতুন বার্তা—রাজনীতিতে বৈচিত্র্য, অংশগ্রহণ আর পরিবর্তনের প্রতীক।